আবারও ফাঁদে পড়লেন সৌম্য!

34

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ  আবার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ধরা পড়লেন সৌম্য সরকার। এ নিয়ে চার ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই এক অঙ্কের রানে বিদায় নিলেন তিনি। আজ চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে তিনি বিদায় নিয়েছেন ৯ রান করে।
অস্ট্রেলিয়াকে দিনের শুরুতেই অল আউট করার পর ব্যাট করতে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার। বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন বড় ইনিংস। কিন্তু সৌম্য বিদায় নেয়াতে শুরুতেই সেই পরিকল্পনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলো। তিনি স্লিপে ক্যাচ দিয়ে কুমিন্সের শিকার হন।

এর আগে দিনের শুরুতেই মোস্তাফিজ আঘাত হানেন আর সেইসাথে গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। আগের দিনের সেই ৩৭৭ রানেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বাংলাদেশ এখন ব্যাট করছে। তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার শুরু করেছেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ম্যাচের আজ চতুর্থ দিন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ১ উইকেট হাতে নিয়ে ৭২ রানে এগিয়ে ছিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান তুলে দিন শেষে করেছে অসিরা। তবে গতকাল সাতটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ খেলায় ফেরাটা নিশ্চিত করেছে।
অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের ৫৮ রানের সাথে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারের অপরাজিত ৮৮ ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার হ্যান্ডসকম্বের অপরাজিত ৬৯ রানের কল্যাণে ২ উইকেটে ২২৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিলো অস্ট্রেলিয়া। এসময় ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৮০ রানে পিছিয়ে ছিলো অসিরা।

তাই বাংলাদেশের রানকে টপকে যাবার স্বপ্ন নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করার পরিকল্পনা ছিলো অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু তৃতীয় দিনের শুরু থেকে দাপট দেখায় বৃষ্টি। নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি তৃতীয় দিনের খেলা।

তবে বৃষ্টির তেজ কমার পর তিন ঘন্টা পর খেলা শুরু হয় তৃতীয় দিনের। ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসকম্বের জমে উঠা জুটি ভাঙ্গতে বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছিলো না। অবশেষে সাকিব আল হাসানের হাত ধরেই ভাঙ্গল ওয়ার্নার-হ্যান্ডসকম্ব জুটি। বল হাতে আক্রমণে আসেননি সাকিব। ফিল্ডার হিসেবেই সরাসরি থ্রোতে নন-স্ট্রাইকের উইকেট ভেঙ্গে হ্যান্ডসকম্বকে বিদায় দেন সাকিব। তাই ৮২ রানে থেমে যান হ্যান্ডসকম্ব। সেই সাথে এই জুটির স্কোর থেমে যায় ১৫২ রানে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেট জুটিতে এটি সর্বোচ্চ।

হ্যান্ডসকম্ব ফিরে যাবার পর ১৩তম বলে বাউন্ডারি দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি তুলে নেন ওয়ার্নার। তিন অংকে পা দেয়ার পর আরও ২০ রান যোগ করতে পেরেছেন তিনি। ২৩৪ বলে ৭টি চারের সহায়তায় ১২৩ রানে থেমে যান ওয়ার্নার। তাকে শিকার করেন বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। এসময় দলের স্কোর ৪ উইকেটে ২৯৮ রান।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে আর কোন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে বাংলাদেশের স্কোরকে টপকে দলকে লিড এনে দিয়েছেন পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান তুলে দিন শেষ করে অসিরা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৮, অ্যাস্টন আগার ২২ ও হিল্টন কার্টরাইট ২২ রানে ফিরেন। স্টিভ ও’কেফি ৮ ও নাথান লিঁও শূন্য রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর ও মিরাজ ৩টি করে উইকেট নেন।