কক্সবাজারে হোটেল ও গেস্ট হাউসে সিসি ক্যামরা বসানোর নির্দেশ উপেক্ষিত

115

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন, কলাতলীসহ আশপাশের আবাসিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস গুলো বর্তমানে নিরাপদ কিলিং এর স্থান হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কিলিং কাজে জড়িতরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় খুন করার জন্য এসব স্থান গুলোকে নিরাপদ হিসেবে বেচে নিয়েছে। এসব হোটেল,গেস্ট হাউস ও কটেজ গুলোতে নারী পুরুষ ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হলেও এ পর্যন্ত একজন হত্যাকারীকে গ্রেফতার কিংবা ঘটনার মোটিভ উদঘাটন করতে পারেনি। সর্বশেষ চলতি মাসেই একটি গেস্ট হাউসে জবাই করে গৃহবধূ হত্যার ঘটনাও বরাবরের মত হয়েছে। প্রতিটি আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজে ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা স্থাপন না করা এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে বারবার এধরনের নৃশংস হত্যা কান্ড গুলো ঘটে যাচ্ছে। ফলে পর্যটকসহ স্থানীয়দের মাঝেও আতংকের সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে,পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজার। এখানে রয়েছে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ। প্রতি বছর পর্যটন মৌসুম ছাড়াও সারা বছরই এখানে দেশী বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। স্বাস্থ্যকর স্থান ও ভ্রমনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে অনেকে বেচে নিলেও এক শ্রেণীর কিলিং কাজে জড়িত লোকজন কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোন, কলাতলীসহ আশপাশের আবাসিক হোটেল-মোটেল,গেস্ট হাউস ও কটেজ গুলোকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেচে নেয়।

সূত্রে আরো জানা যায়,ভ্রমনপিপাসু লোকজন হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ গুলোর রেজিষ্টার খাতায় নিজের নাম ঠিকানা সঠিক দিলেও হত্যা ও পরিকল্পনাকারী বেশীর ভাগ লোক মিথ্যা এবং প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে ভুয়া নাম ঠিকানা দেয়। অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যার পর মৃতদেহ হোটেল কক্ষে ফেলে নিরাপদে সরে পড়ে। পুলিশ মৃত দেহ উদ্ধার করলেও নাম ঠিকানায় গরমিল থাকলে লাশ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। বেওয়ারিশ হিসেবে অনেক লাশ দাফন করা হয়। এ ছাড়া কিছু লাশের পরিচয় মিললেও হত্যার উদ্দেশ্য এবং হত্যাকারী থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। ওই সব হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ গুলোতে জামায়াত নেতা, প্রবাসীর স্ত্রী, ব্যবসায়ী, নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ খুন হয়েছে। এসব হত্যা কান্ড গুলো বারবারই রহস্যের ধুম্র জালে আটকে থাকে। কখনো আতœহত্যা কখনো হত্যায় রূপ দেয়া হয়। পুলিশ হত্যা বা আতœহত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কার্যক্রম চলে যায় হিমাগারে। কোন হত্যাকারীকেই আইনের আওতায় আনতে সম্ভব হয় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

এদিকে, পর্যটন এলাকার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ গুলোতে অপরাধ কর্মকান্ড হ্রাসে এবং অপরাধীদের সহজে ধরার জন্য গত কয়েক বছর ধরে সিসি ক্যামরা বসানোর নিদের্শ দেয় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু সেই নির্দেশ বরাবরই উপেক্ষিত। তবে অন্তত অর্ধশত হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজ ছাড়া বাকী গুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা এখনো বসানো হয়নি। এতে করে কিলিং কাজে জড়িতরা নিরাপদে তাদের মিশন সফল করতে সক্ষম হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, প্রশাসন থেকে প্রতিটি হোটেল- মোটেল, গেস্ট হাউস ও কটেজগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামরা বসানোর জন্য নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত ৩০/৪০টিতে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,সিসি ক্যামরা স্থাপন করতে ব্যয় বহুল। অন্তঃত এক থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। তাই ব্যয় বহুল হওয়ায় অনেকে সিসি ক্যামরা বসাতে আগ্রহী হচেছ না।

কক্সবাজার মডেল থানার অপারেশন অফিসার (উপ-পরির্দশক) আবদু রহিম বলেন, পর্যটন এলাকায় হোটেল, মোটেল, গেষ্ট হাউস ও কটেজগুলো যারা সিসি ক্যামরা স্থাপন করেনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। অনেক গেষ্ট হাউস ও কটেজে অভিযান চালানোর কারণে সিসি ক্যামরা বসানো হয়েছে।