ঝিনাইদহে কৃষক ও মিলারদের যে কারনে ধান চাল বিক্রিতে আগ্রহ নেই

121

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহে ধান চাল সংগ্রহ অভিযানে মিলার ও কৃষকদের আগ্রহ নেই। সরকারী দর থেকে বাজার মুল্য বেশি হওয়ায় ধান চাল বিক্রিতে সাড়া দিচ্ছেন না তারা। সরকারী ভাবে ধান চাল কেনার বাইশ দিন পার হলেও এক মুঠো ধানও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এ ভাবে চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ব্যার্থ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে ঝিনাইদহ খাদ্য বিভাগ। ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ বাবুল হোসেন জানান, জেলার ৬ উপজেলার চলতি মৌসুমে দশ হাজার ৬৮৮ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়।

এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৭০৮ মেট্রিক টন, হরিণাকুন্ডুতে ৬৬৭ মেট্রিক টন, মহেশপুরে ৮১৭ মেট্রিক টন, কোটচাঁদপুরে ৭৩৮ মেট্রিক টন, কালীগঞ্জে ১৩২৫ মেট্রিক টন ও শৈলকুপায় ১৪৩৩ মেট্রিক টন কেনার টার্গেট রয়েছে। তিনি আরো জানান, গত পহেলা মে থেকে ৩১ শে আগষ্ট পর্যন্ত এই চাল কেনার সময় থাকলেও এ পর্যন্ত সারা জেলার ৩৪ জন মিলার মাত্র ৯’শ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।

এ অবস্থায় বাকী ৯ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনা সম্ভব হবে না। মিলার ও কৃষকদের অনাগ্রহ সম্পর্কে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন জানান, সরকারী দর চাল হচ্ছে ৩৪ টাকা কেজি। কিন্তু বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকারও বেশি দরে। বাজার মুল্য বেশি হওয়ায় ধান এবং চাল বিক্রিতে সাড়া দিচ্ছেন না ঝিনাইদহের কৃষক ও মিলাররা। এ অবস্থায় ঝিনাইদহ জেলায় ধান চাল কেনা অভিযান ব্যার্থ হতে পারে বলে মনে করছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি জসিম উদ্দীন জানান, সরকার ঘোষিত সময় থেকে ২২ দিন অতিবাহিত হলেও গুদামগুলোতে এক ছটাক চালও ঢোকেনি। জেলায় ৮ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কোন কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেনি বলে তিনি জানান।

পরিস্থিতি উত্তরণের পথ সম্পর্কে ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, খাদ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে আমরা এই মুহুর্তে চাল আমদানীতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছি। শুল্ক প্রত্যাহার হলে হয়তো বাজার স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু সেটা সম্ভব হবে কিনা বলা যাচ্ছে না।