ঝিনাইদহে পাওনাদারের নামে মিথ্যা ডাকাতি মামলা

22

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ   ঝিনাইদহের পল্লিতে এবার পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে অবশেষে পাওনাদারের নামে মিথ্যা ডাকাতি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর থানার গবিন্দপুর গ্রামের মৃত.মোকাদ্দেস মন্ডলের ছেলে বিদেশ ফেরত রবকুল ইসলাম দেশে ফিরে গরুর ফার্ম ও অন্যান্ন্য ব্যাবসা শুরু করে। গরুর খাবার ক্রয় করা ও ব্যাবসা বানিজ্য সুত্রে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সিমান্ত চিত্রা নদীর ওপারে চুয়াডাঙ্গা সদরের কলাগাছি গ্রামের গনেষ কৃষ্ণ ঘোষের ছেলে ভুষিমাল ব্যাবসায়ী হরেন কৃষ্ণ ঘোষের সাথে রবকুলের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক চলাকালীন অবস্থায় সুচতুর হরেন ঘোষ রবকুলকে বলে যে, আমার আমার বাড়িতে ও বাজারে ভুষি মাল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য বড় গোডাউন আছে। আমার টাকা পয়সা কমতি, আমার ভুষিমাল ব্যাবসায় তুমি যদি টাকা ইনভেষ্ট করো তাহলে লভ্যাংশ অর্ধেক তোমাকে দিব, আর তোমাকে ভুষি মাল ব্যাবসায় সময়ও দিতে হবেনা। উক্ত চুক্তিতে উভয়ে রাজি হলে ১৫ই নভেম্বর ২০১৬ সালে গবিন্দপুর রবকুলের বাড়িতে এসে হরেন ও তার ভাই সুনিল ঘোষ নগদ তিন লাখ টাকা গুনে বুঝে নিয়ে যায়। এর কিছুদিন পরে ৫ই জানুয়ারি ২০১৭ সালে পুররায় রবকুলের বাড়িতে এসে হরেন ও তার ভাই সুনিল নগদ দুই লাখ টাকা ও ত্রিশ হাজার টাকা মুল্যের সমপরিমান ধান নিয়ে যায়।

পরে চুক্তি মোতাবেক হরেন আর রবকুলের সাথে যোগাযোগ ও টাকা পয়সা না দিলে হরেন আর রবকুলের দেয়া সর্বমোট ৫ লাখ ত্রিশ হাজার টাকার লভ্যাংশ হরেনের বাড়িতে চাইতে গেলে টাকা দিতে পারব না জানিয়ে রবকুলকে তাড়িয়ে দেই। পরের দিন আনুমানিক ৩মাস পুর্বে সুযোগ বুঝে রবকুলের নামে একটি মিথ্যা ডাকাতি মামলা দায়ের করলে আর কখনও তার পাওনা টাকা চাইতে পারবে না ভেবে সুচতুর, কুমতলবী ও ধুর্ত হরেন ঘোষ টাকা ফেরত না দিয়ে চুয়াডাঙ্গা কোর্টে রবকুলের নামে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করে। যা বর্তমানে চলমান অবস্থায় আছে। ডাকাতি মামলার কথা শুনে দিশেহারা রবকুল চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে। হতাশ রবকুল সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদে হরেনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের দরখস্ত করিলে সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদ নাজির উদ্দিন চেয়ারম্যানের নিকটে হরেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। কিন্তু ১৬ই এপ্্িরল ২০১৭ সালে সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদে শুনানীর দিনে হরেন গংরা হাজির হয়নি। বার বার হরেনকে পাওনা টাকার ব্যাপারে সাধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার নোটিস জারি করলেও হরেন হাজির হয় না। অবশেষে চেয়ারম্যান নাজির উদ্দিন পাওনা টাকার সত্যতা স্বীকার করে প্রতারক হরেনের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ জর্জকোর্ট বরাবর একটি প্রত্যায়ন পত্র পেশ করার পরে ২৪ইমে ২০১৭ সালে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিঃ আমলী আদালত ঝিনাইদহ জর্জ কোর্ট দঃবিঃ ৪২০, ৪০৬, ৫০৬/২ ধারায় হরেন গংদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে ২১শে আগষ্ট ২০১৭ তারিখে কোর্টে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন।

এদিকে হরেন মোবাইল (০১৭৯৬-২৪৫৭৭৪) নং থেকে রবকুলকে প্রতিনিয়ত হুমকী দিয়ে বলছে, তোর কাছে আমি ৪০লাখ টাকা পাবো, সেই টাকা যিভাবেই হোক আদায় করবো। আমার বাড়িতে টাকা নিতে এসে তোকে ডাকাত সাজালাম। এ ব্যাপারে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে বাড়ি ছাড়া করবো বলে সাংবাদিকদের কাছে রকবুল জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সরেজমিনে কলাগাছি গ্রামে গিয়ে হরেনকে বাড়িতে পাওয়া যাইনি বলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। হরেনের ভাই রাজকৃষ্ণ মুঠোফোনে টাকা পয়সা লেনদেনের ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজী না হয়ে বলেন, তবে চলতি মাসের ২১ তারিখে ঝিনাইদহ জর্জ কোর্টে হাজিরা দিতে এসে কথা হবে বলে তিনি জানান।