নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর কনস্টেবল নির্যাতন

পিবিআই’র তদন্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকারসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

66

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ২ উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে নির্যাতনের অভিযোগে আদালত দায়েরকৃত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনেভেস্টিগেশন পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ১৫ জানুয়ারী রোববার নির্যাতিত কনস্টেবল বশির উদ্দিন বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৩ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হলেন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার, উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোঃ মজিবর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোজাম্মেল হক।

বিবরণে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনের ছোট তিন ভাই নাসির উদ্দিন, জামাল উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিনের মালয়েশিয়ায় আল-ফাতেক নামে একটি মিনি মার্কেটসহ একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের ৪০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ফারুক, জাহিদ ও কবির নামে ৩ জন বাংলাদেশী আল-ফাতেক মিনি মার্কেটের কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছিল। বিগত কয়েক বছর যাবত উল্লেখিত তিন কর্মচারী কূট-কৌশলে মার্কেটের মূল ক্যাশ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে সংগোপনে মার্কেটের সিসি ক্যামেরা বন্ধ রেখেছিল। চাঞ্চল্যকর ঘটনার আচ করতে পেরে মার্কেটের মালিক নাসির উদ্দিন সম্প্রতি তাদের হাতে-নাতে ধরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে প্রবাসী চক্রটি টাকা ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে বিষয়টি মার্কেট মালিকের সাথে সমঝোতায় পৌঁছে। অভিযুক্ত ৩ জন বাংলাদেশী তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে মার্কেট মালিকের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনের নিকট মোটা অংকের হাতিয়ে নেয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে অঙ্গীকার করে। অপরদিকে অভিযুক্ত প্রবাসী ফারুক ও জাহিদ টাকার কোনরূপ সুরাহা না করেই কূট-কৌশলে মালয়েশিয়া থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মালেয়শিয়ায় অবস্থানরত মার্কেটের মালিক নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর প্রেক্ষিতে মালেয়শিয়া থেকে পলাতক আসামী ফারুকের বড় ভাই আঃ হাসিম মার্কেট মালিক নাসির উদ্দিনের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনের সাথে পূণরায় সমঝোতায় পৌঁছে দুই কিস্তিতে আত্মসাতকৃত টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার প্রদান করে।
প্রদেয় অঙ্গীকার মোতাবেক আত্মসাতকৃত ১ম কিস্তির টাকা ফিরিয়ে দিতে পলাতক আসামী ফারুকের বড় ভাই আঃ হাসিম মার্কেট মালিক নাসির উদ্দিনের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে রায়পুরা থানার মরজাল এলাকায় আসতে বলে। এরই প্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল বশির উদ্দিন মরজাল এলাকার আঃ হাসিমের নিকট আত্মসাতকৃত ১ম কিস্তির টাকা নিতে আসেন। এ সময় আঃ হাসিম ও তার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রদেয় অঙ্গীকার মোতাবেক আত্মসাতকৃত ১ম কিস্তির টাকা ফিরিয়ে না দিয়ে কনস্টেবল বশির উদ্দিনের সাথে উল্টো বাক-বিতন্ডাসহ প্রাণনাসমূলক ব্যবস্থার সর্বপ্রস্তুতির এক পর্যায়ে তিনি অনাকাঙ্খিত ঘটনা দ্রুত এড়াতে নরসিংদীর রায়পুরা থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকারকে অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিবরণ জানালে তিনি তাদের থানায় নিয়ে যান।
একইদিন গভীর রাতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার অবঃ কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে ৫ লাখ টাকা উৎকোচ পেলে অভিযুক্তদের আটক করে আত্মসাতকৃত সমুদয় পাওনা টাকা আদায় করে দেয়া হবে বলে জানান। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার’র অনৈতিক প্রস্তাবে অবঃ কনস্টেবল বশির উদ্দিন সম্মতিজ্ঞাপন না করায় আজহারুল ইসলাম সরকার আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবস্থান নেন ।

প্রতিপক্ষ মালেয়শিয়া থেকে পলাতক আসামী ফারুকের বড় ভাই অভিযুক্ত আঃ হাসিমের সঙ্গে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার’র গোপন আতাত করে উল্টো বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর এক অভিনব নাটকীয়তায় লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার থানায় ডেকে এনে বসিয়ে রেখে কালক্ষেপন করতে থাকলে তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার’র গোপন আতাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যান। চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের ব্যাপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ না করে থানায় বসিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সরকার থানা অভ্যন্তরে অবঃ কনস্টেবল বশির উদ্দিনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহতাবস্থায় মিথ্যে মামলায় ফাসিয়ে তাকে আদালতে পাঠায়। বিনা অপরাধে নরসিংদী কারাগারে ৬ দিন জেল-হাজত ভোগ করার পর অবশেষে কনস্টেবল বশির উদ্দিন জামিনে মুক্তি পেয়ে  নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নরসিংদী জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোঃ আশিকুর রহমান কাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।