নরসিংদী’তে ষোড়শী গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

39

এম,এ,সালাম রানা,নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদীতে ‘যৌতুকের দাবী’ পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পাষন্ড বর্বর স্বামী, দেবর ও শ্বশুর ২২ বছরের এক ষোড়শী গৃহবধুকে পৈচাশিক কায়দায় মাথা ন্যাড়াসহ শারীরীক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর সংবাদ পাওয়া গেছে। রায়পুরা উপজেলার জাহাঙ্গীনগর গ্রামের বর্বর শ্বশুর হাসেম মিয়ার পাষন্ড পুত্র যৌতুকলোভী স্বামী কবির মিয়া নিজ বাড়ীতে মাথার চুল, ভ্রু কেটে মাথা ন্যাড়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন চালানোর এক বর্বোরচিত পৈচাশিক কান্ড ঘটিয়ে স্ত্রীকে সজ্ঞাহীন করে। বর্বোরচিত পৈচাশিক এ ঘটনায় ২ জানুয়ারী মঙ্গলবার নির্যাতিতা অথরা আক্তার ওরফে সুমি (২২) বাদী হয়ে পাষন্ড স্বামী কবির মিয়া, বর্বর শ্বশুর হাসেম মিয়া , শাশুড়ি, দেবরসহ ৫ জনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা করেছেন। ঘটনার ৪ দিন অতিবাহিত হলেও রায়পুরা থানা পুলিশ গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে দাম্পত্য জীবনে তাদের ঔরশে পরপর দুটি পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করে।

নির্যাতিতা সুমী’র পারিবারিক সূত্র জানায়, বিগত ৬ বছর পূর্বে একই উপেেজলার পলাশতলী ইউনিয়নের শাহ’র-খোলা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিনের কন্যা অথরা আক্তার ওরফে সুমিকে পার্শ্ববর্তী জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের বর্বর হাসেম মিয়ার যৌতুকলোভী কুলাঙ্গার পুত্র কবির মিয়ার সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। যৌতুকলোভী কুলাঙ্গার রিক্সা গ্যারেজের মালিক কবির যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীর উপর মানসিক, শারীরীকসহ বিভিন্ন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার সুমী তার দাম্পত্য জীবনের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় হত:দরিদ্র বাবার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা পাষন্ড স্বামী কবির মিয়াকে দিলেও যৌতুকলোভী পরিবারের সদস্যদের পাশবিক নির্যাতনের হাত থেকে শেষ রক্ষাটুকু পায়নি।

যৌতুকলোভী কুলাঙ্গার কবির মিয়া সম্প্রতি বাড়ীতে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য স্ত্রী সুমী’র নিকট সম্পূর্ণ বে-আইনীপন্থায় ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। বর্বর পাষন্ড স্বামীর দাবীকৃত যৌতুকের টাকা এনে দিতে নির্যাতিতা সুমী অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। এরই প্রেক্ষিতে বিজয়ের মাসের ক্রান্তিলগ্নে ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে নারী

নির্যাতনকারী বর্বর শ্বশুরালয়ে কুলাঙ্গার স্বামী কবির মিয়া স্ত্রী সুমীকে পুনঃরায় যৌতুকের জন্য প্রবল চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পর অর্থলোভী পাষন্ড স্বামী কুলাঙ্গার কবির মিয়া সুমীকে বে-ধরক মারপিটসহ অমানবিকভাবে শারীরীক নির্যাতন চালায়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে যৌতুকলোভী পরিবারের কর্তা নারী খেকো জানোয়ার বর্বর শ্বশুর হাসেম মিয়া কুলাঙ্গার ২ পুত্রসহ তার স্ত্রীকে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় পুত্রবধু সুমী’র উপর অমানবিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। এ সময় পাষন্ড স্বামী কুলাঙ্গার কবির মিয়া ঘরে থাকা কাঁচি দিয়ে ষোড়শী গৃহবধু সুমী’র মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। এরপর শ্বাশুরীসহ পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে যৌতুকলোভী জানোয়ার বর্বর শ্বশুর হাসেম মিয়া পুত্রবধু সুমী আক্তারের দেহের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে ঝলসে দেয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জানোয়ার শ্বশুরের দেবর নামীয় অপর কুলাঙ্গার পুত্র তার চোঁখের ভ্রু কেটে ফেলে। যৌতুকলোভী জানোয়ার পরিবারের সদস্যদের অমানবিক পৈচাশিক নির্যাতন সইতে না পেরে পুত্রবধু সুমী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্যকর এ সংবাদ পেয়ে পৈচাশিক নির্যাতনের শিকার সুমী’র বাবার বাড়ি লোকজন দ্রুত এসে শ্বশুরালয় থেকে অজ্ঞানাবস্থায় তাকে উদ্ধার শেষে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
মধ্যযুগীয় কায়দায় যৌতুকলোভী জানোয়ার পরিবারের সদস্যদের অমানবিক পৈচাশিক নির্যাতনের শিকার হাসপাতালে

চিকিৎসাধীন ২ সন্তানের জননী সুমী জানায়, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন মানসিক বিড়ম্বনাসহ বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। দু’টি পুত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বিগত সময়ে যৌতুকলোভী স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করে আসাবস্থায় নতুন ঘর নির্মাণের অজুহাতে আমার দরিদ্র পিত্রালয় থেকে ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। অন্যথায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী পিতা এত টাকা পাবে কোথায় জানালে ক্ষিপ্ত পরিবারের সদস্যরা আমার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। আমার গর্ভজাত সন্তান দু’টিকেও তারা আমার নিকট থেকে কেড়ে নিতে চায়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়েছে। যে কোন সময় তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় এলাকাবাসীসহ জেলার সচেতনমহলে ঘৃণীত অবিশ্বাস্যকর বর্বোরোচিত মধ্যযুগীয় কায়দায় যৌতুকলোভী জানোয়ার পরিবারের সদস্যদের অমানবিক পৈচাশিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তীব্র নিন্দাসহ চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠণ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক (এনএনপিএন), মাদারস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এমডিএস), জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ) বিশ্ময়কর বর্বোরোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনায় জড়িতদের সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের নিকট দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here