প্রধান বিচারপতি বিএনপি-জামায়াতের উক্তির পুনরাবৃত্তি করেছেন : প্রধানমন্ত্রী

24

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধান বিচারপিত ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উক্তির পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার এ রায় ও পর্যবেক্ষণে অনেক সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত আইন প্রণয়ন করতে পারে না, সংশোধনও করতে পারে না। সেই অধিকার কেবল সংসদের। আমরা ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন ’৭২ এর সংবিধানের মূল কাঠামোয় ফিরে গেলাম তখন হাইকোর্ট তা বাতিল করে দিলো। এরপর আপিল বিভাগের রায়ে প্রধান বিচারপতি শত শত বছর পেছনে ফিরে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে নানা স্ববিরোধিতাও আছে। কোথা থেকে কারা এটা তৈরি করে দিয়েছে সেটাও একটা প্রশ্ন। যে রায় দেয়া হয়েছে-তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি। জনগণের কাছে সবার জবাবদিহিতা থাকতে হবে।

গতকাল সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ও আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ বিষয়ে উত্থাপিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রস্তাবটির ওপর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ ২০ জন সরকারি, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্য প্রায় ৪ ঘণ্টা আলোচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবটি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করলে এটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সংসদ, বিচার বিভাগ ও স্বাধীনতাযুদ্ধে একক নেতৃত্বসহ কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কড়া সমালোচনা করেন।

মইন উদ্দীন খান বাদল তার প্রস্তাবে বলেন, সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদপে গ্রহণ করা হোক।