বরিশালে প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধ বাগদার রেণু নিধন

মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা

105

বরিশাল প্রতিনিধি

প্রশাসনের চোখের সামনে বাগদা ও গলদা চিংরি পোনা ধরার নামে ভোলা গলাচিপা বরগুনাসহ দেশের দক্ষিণ উপকূলে প্রতিদিন মশারির জাল দিয়ে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক লাখ মাছের পোনা নিধন করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার হুমকিতে পড়েছে। মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর ব্যবসার মূল হোতা গোপালগঞ্জের( টুলু )বরিশালে থেকে এই ব্যবসা করে যাচ্ছে র্দীঘ দিন ধরে। এক জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, পোনা সংগ্রহকারীরা একটি বাগদা পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করছে ৩৮  প্রজাতির চিংরি ছাড়া ও ছয় প্রজাতির অন্য মাছ এবং ৫৬ প্রজাতির জুপংটনসহ ১০০ প্রজাতির জলজ প্রানী।

জানতে চাইলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান  ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সুলতান মাহমুদ বলেন, এটি যে মৎস্য ভান্ডারের জন্য বিরাট হুমকি তা বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম উপায়ে (হ্যাচারি পদ্ধতি) চিংড়ি রেণু উৎপাদনকে উৎসাহিত করা দরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার উপকূলে চিংড়ি পোনা শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে দরিদ্র জেলেদের চিংড়ি ধরার কাজে উৎসাহিত করছে টুলু ।

পাথরঘাটার চরদুয়ানি মৎস্য উপকেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ১৮টি ট্রাক গলদা ও বাগদা রেণু নিয়ে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট যায়। বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া, মহিপুর, কুয়াকাটা ও আলীপুর মোকাম থেকে কমপক্ষে ১০টি ট্রাক এবং বরগুনা সদর থেকে দুটি ট্রাক বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় যায় টুলুর নেতৃতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল পাথরঘাটার কয়েকজন পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ট্রাকভেদে ১৮ থেকে ৩০টি পাতিল বহন করা যায়।

একেকটি পাতিলে ১০ হাজার করে পোনা বহন করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে তিন লাখ পোনা বহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই তিন পথে ৩০টি ট্রাকে গড়ে ৬০ লাখ পোনা পাচার হয়। এ ছাড়া নদীপথে ট্রলারে করে পাচার হয় কমপক্ষে আরও ৪০ লাখ পোনা। বাগদা রেণুর প্রতি হাজার এক হাজার টাকায় কিনে মোকামে দেড় হাজার এবং গলদা পোনা দেড় হাজার টাকায় কিনে মোকামে দুই হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়।ভোলা গলাচিপা বরিশাল সদর,পাথরঘাটার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পাতিলপ্রতি, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও ক্যাডারদের মাসে এক লাখ টাকা,ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এর মধ্যে কোষ্টগাট, নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, ফিসারি, ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ, ফাঁরি পুলিশ ,টহল পুলিশ,সহ জিরো থেকে উপর লেভেলের সবাইকে মাসিক বিশ লাখ  টাকা দিয়ে এসব ট্রাকে করে পোনা পাচার করা হয়। জানান একাধিক ব্যাবসায়ীরা। এর মুল হোতা টুলু ও হারুন হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের আরো বলেন আপনার এসব লিখে কোন লাভ নেই। কারন প্রশাসনের নয়নের মনি আমি টুলু সব আমার হাতে মুঠে ।

এ ছাড়া গলাচিপা ও  এলাকায় ট্রাক প্রতি পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের আরও পঞ্চশ হাজার টাকা দিতে হয় পুলিশের ক্যাশিয়ার দেলোয়ার নিজে পুলিশ পাহারায় এই অবৈধ রেনু লেবুখালী পৌছে দেয়। সরেজমিনে ভোলা কুয়াকাটা গলাচিপা  বরগুনার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, বহু নারী-শিশু মশারির জাল দিয়ে চিংড়ি রেণু ধরার কাজে ব্যস্ত। প্রতিবার জাল ফেলে সাত-আটটি চিংড়ি পোনা পেলেও তার সঙ্গে উঠে আসছে টেংরা, পোয়া, সহ কয়েক প্রজাতির পোনা। চিংড়ি পোনা আলাদা করে মাটি ও অন্যান্য পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে।

সবাই যদি এভাবে টাকার কাছে নিজের দেশকে বিক্রি করে তাহলে কে রক্ষা করবে দেশের সম্পদ তাই দেশের সম্পদ রক্ষাত্তে সবার এক হওয়ার আহব্বান জানান