মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শারদীয়া দূগোৎসব শুরু দুর্গাপূজা ঘিরে নরসিংদীতে উৎসবের আমেজ

84

নরসিংদী প্রতিনিধি: মঙ্গলবার শারদীয়া দূগোৎসবের মহাষষ্ঠী।  দেবীদুর্গার বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গা পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গা পূজা। এবছর দেবী দূর্গা আসবে নৌকায় করে যাবে ঘোড়ায় চেপে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে নরসিংদীতে চলছে উৎসবের আমেজ।

দুর্গা দেবীকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করে পুরোদমে চলছে প্রতিমার গায়ে শেষ তুলির আঁচর দিয়ে রং তুলির আঁচরে শিল্পনৈপুণ্য ফুটিয়ে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা। ষষ্ঠীর আগেই দেবী দুর্গাকে পূজামণ্ডপে পৌঁছে দিতে কাজ চলছে দিন-রাত।

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সাজ-সজ্জার ব্যাপক আয়োজন। শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিটি মণ্ডপের সাজ-সজ্জার কাজ। পূজামণ্ডপে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা, বৈচিত্র্য সাজ-সজ্জা, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমের সমারোহ ঘটিয়েছেন আয়োজকরা।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও জেলার সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুর্গাপূজার আয়োজন করছে শহরের মধ্যকান্দাপাড়ার বাগবিতান ক্লাব। এখানে তৈরি হচ্ছে নাগ মন্দির।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা যায়, এবার নরসিংদী জেলায় ৩২৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা  অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ৯৮টি, পলাশে ৩৯টি, শিবপুরে ৬৯টি, মনোহরদীতে ৪৪টি, বেলাবতে ১৮টি ও রায়পুরা উপজেলায় ৬১টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

নরসিংদীর তুর্য্য প্রতিমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী দুলাল পাল বলেন, এখন প্রায় কাজ শেষ পর্যায়ে আর বাকি রংয়ের শেষ প্রলেপ ও অঙ্গসজ্জার কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে দিতে হবে প্রতিমা। তিনি জানান, নরসিংদীর এসব প্রতিমা তৈরির কারখানা থেকে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিমা সরবরাহ করা হয়। এবার পূজায় সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে।
শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ প্রতিমা শিল্পালয়ের বলরাম পাল বলেন, মৃৎশিল্পীদের হাতের নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিমার সৌন্দর্য। মানে ভালো ও দামে কম হওয়ায় নরসিংদীর প্রতিমার চাহিদা দেশজুড়ে।

বিশ্বকর্মা প্রতিমা শিল্পালয়ের সঞ্জিত পাল বলেন, আমার কারখানায় ৫ জন কারিগর নিয়ে মোট ২০ প্রতিমা তৈরি করেছি। বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে অজন্তা, অরিয়েন্টেল, দেবী ও স্বাম্য নামে চার প্রকারের প্রতিমা তৈরি করেন মৃৎশিল্পীরা। আয়োজকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে অজন্তা প্রতিমা।
এদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে। নরসিংদী জেলা প্রশাসন জেলার ৩২৯ টি পূজা মণ্ডপের প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

নরসিংদী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রফেসর সূর্য্যকান্ত দাস বলেন, এবার নরসিংদী জেলায় ৩২৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত  হবে। তিনি জানান, পূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে  প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। জেলার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি তদারকির জন্য একটি কন্ট্রোল রুম খোলা  হবে।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৫ শতাধিক পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। তাদের সহযোগিতার জন্য থাকবে প্রায় আড়াই হাজার আনসার ও মণ্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল।
এছাড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি স্পেশাল টিম নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পূজা মণ্ডপগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অপরদিকে নরসিংদী শহরের পূজামণ্ডপগুলোর নেতৃবৃন্দ, জেলা ও শহর পূজা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের সম্বনয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর নরসিংদী পৌর মিলনাতনে এক মতবিনিময় সভা করে পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বিজয়া দশমীর দিন রাত ৮ টার মধ্যে স্বাধীনতা চত্বরের সম্মুখে শহরের সকল মণ্ডপের প্রতিমা সমবেত করে নরসিংদীর পৌর বিজয় দশমীর ঘাটে (পুরনো থানার ঘাট) দশমী করার ঘোষনা দেন মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল।