যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, এখন হারিয়েছি নিজের ভূ-সম্পদ: মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন

36

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কক্সবাজারে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ায় স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে চরম ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক সময়ের জমিদার অসহায় বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির।

পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত বিশাল ভূ সম্পত্তির মালিক এ মুক্তিযোদ্ধার কয়েক কোটি টাকার ভূসম্পদ বর্তমানে মৃত আমির হোসেনের দুই ছেলে বিএনপি ও জামাত নেতা স্থানীয় দখলবাজ আহমদ কবির ভদাইয়া ও ফোরকান আহমদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা জবর দখলে নেয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ঠাই হয়েছে অন্যের জায়গায়। ১৯৭১ সালের রনাঙ্গনে টকবগে যুবক মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির সম্মূখ সমরে থেকে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলে ও আজ নিজ ভূমিতে চির অবহেলিত। স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালীরা  আজ তার জমি জমা ভূ সম্পত্তি একের পর এক ঘ্রাস করে নিলে ও প্রশাসন কিংবা জন প্রতিনিধিরা তার প্রতি সাহায্যের হাত প্রসারিত করছেনা । এমন কি থানা পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুনের  আবেদন নিবেদন কে অবজ্ঞা করে চলছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এ মুক্তিযোদ্ধার ভূ সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করা কো দুরের কথা বরং উন্টো দখলবাজ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে সন্ত্রাসীদের প্রতিনিয়ত হুমকির মূখে তিনি অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেণ। সম্প্রতি সময়ে তিনি তার জমি জমা রক্ষা ও উদ্ধারে প্রধান মন্ত্রী সহ উধ্ধতন প্রশাসনের ধারস্থ হওয়ায় ওই দখল বাজ সন্ত্রাসীরা তাকে রীতিমত প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির অশ্রুজলে এ প্রতিবেদককে জানান, তাঁর পূর্বের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান গ্রামের মহাজন পাড়ায়। তাঁর পিতা মৃত জ্যোতিষ দাশ ও তাঁর নাম ছিল দীলিপ কুমার দাশ। চট্টগ্রামের চুনতির মরহুম মাওলানা হাফেজ আহমদ (শাহ সাহেব কেবলা (র:)এর নিকট ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তার নাম রাখেন মো: হুমায়ুন কবির।

হুমায়ুন কবির (দীলিপ কুমার দাশ) মহান মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেন। তিনি যুদ্ধকালীন এক নম্বর সেক্টরে গেরিলা বাহিনী গ্রুপ কমান্ডার একে এন শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বের ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৫ বছর সময় অতিবাহিত হলেও সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভূক্ত হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনাললে। কিন্তু এখনো কোন সহযোগিতা পাননি। তাঁর সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া তাঁর বড় ভাই আশুতোষ দাশ মহাজনকে ১৯৭৫ সালের ৮ই মার্চ কলাউজান গৌরসুন্দর মহাজন বাজারে প্রকাশ্যে দিবালোকে ব্রাশ ফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওই হত্যাকান্ডে রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা (নং ৩৯৬ জি.আর-৫৪/৭৫,

সি.এস-৯২) দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকও করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী, আতউর রহমান খাঁন কায়ছার ও এম ছিদ্দিক এম.পি’সহ অনেকেই। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তারা দুই ভাইকে লাইসেন্সসহ ২টি বন্দুক ও ২টি পাসপোর্ট (সিরিয়াল নং- ১২১৩ বি,পি,পিÑনম্বর ১৩৪  (সেকশন রুল) পাসপোর্ট নং বি ০৮২৯৮) উপহার দেন। এমনকি এ জঘন্য ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির ও আশুতোষের পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্বও নিয়েছিলেন।

কিন্তু ঘাতকরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করায় বর্তমানে তিনি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তিনি আরও জানান, ১৯৭৫ সালের ২১ই আগস্ট তৎকালীন ২৫০ জন সেনাবাহিনী তাঁর পূর্বের পৈত্রিক বাড়ি থেকে তাঁকে সিকিউর (অপহরণ) করে নিয়ে যায়। তিন দিন ধরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি আর্মি ক্যাম্পে আটকে রেখে ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি না করার জন্য মুচলেখাও নেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, হারিয়েছি নিজের ভূ-সম্পদ।

গত ৩৭ বছর ধরে হারবাংয়ের তাঁর শাশুড় বাড়ির পার্শ্বে একটি কুড়েঁঘরে দূর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারের ঘরে জন্ম নেয়া মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত চকরিয়া উপজেলার হারবাং বাস ষ্টেশনের পশ্চিম পাশে ও বাজার সড়কের উত্তর পাশ্বে লাগোয়া কয়েক কোটি টাকার সম্পদ তাঁর অসহায়ত্বের সুযোগে জবর দখল করে নিয়েছে স্থানীয় আহমদ কবির ভদাইয়ারা সহ প্রভাবশালীরা। অপরদিকে মানিকপুরের জায়গা জমি জবর দখলে নিয়েছে মৃত গোরাম ছোবহানের ছেলে নাছির উদ্দিন গং। তাঁর দেয়া তথ্য মতে চট্টগ্রামের কলাউজান, লোহাগাড়া, কক্সবাজারে চকরিয়ার হারবাং ও মানিকপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭৭ একর জমি থাকলেও বর্তমানে এক কড়া জমিও তাঁর দখলে নেই। এসব জমি উদ্ধার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের দায়িত্ব নিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here