সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : অলস সময় পার করছেন চট্টগ্রামের জেলেরা

91

বশির আলমামুন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  চট্টগ্রামে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর-জুঁইদন্ডী-বারশত তিন ইউনিয়নে ১ হাজার ট্রলারের অধীনে ১০ হাজারের অধীক জেলে বর্তমানে ইলিশ ধরার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। দীর্ঘ ২২ দিন পর আবার পুর্নোদ্যমে মাছ ধরবেন এমন আশা জেলেদের মাঝে। এ সময়ে জেলেদের একমাত্র পেশা মাছ ধরতে না পারায় উপজেলার প্রায় ১০ হাজারের অধীক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। এখন তারা জাল বুনে অলস সময় পার করছেন।

মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম চিহ্নিত করে ১লা অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের অভয়াশ্রম গুলোতে মাছ শিকার, মাছ আহরন, বাজারজাতকরন, বিক্রি ও পরিবহন নিষিদ্ধ করেছেন সরকার।

সরেজমিনে দেখাযায়, চট্টগ্রামের ফিসারীঘাট, ব্রিজঘাট, ফিরিঙ্গীবাজার, পাহাড়লীর কাট্টলি, সীতাকুন্ড উপজেলার কুমিরা, বাশঁখালীর রায়পুর ইউনিয়নের বাঁচা মিয়া মাঝির ঘাট এলাকায় সাগরে যেতে না পারায় বেড়ীবাঁধ, রাস্তার পাড় কিংবা নদীর কিনারায় বসে জাল বুনে অলস সময় পার করছেন জেলেরা। সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পেরে বহু জেলে পরিবারে বর্তমানে চলছে আর্থিক অভাব অনটন। মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ সময়ে অনেকে অতি উৎসাহ দেখিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও বেশিরভাগ জেলেই সরকারের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছেনা। যারা অবরোধের সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাছ ধরতে যায় তাদের অনেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কবলে পড়ে জাল, ট্রলার, মাছ হারাচ্ছে।

আবার অনেকের জেল ও জরিমানা দুটোই হচ্ছে। তবে এই জেলেদের বেশিরভাগই প্রশাসনের চোখকে ফাকি দিয়ে মাছ ধরছে। এজন্য যারা মাছ ধরতে যায়না তাদের মধ্যে ক্ষোভের কমতি নেই। জেলেরা বলছেন, আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে সাগরে মাছ ধরতে যাইনা। অনেকে মাছ ধরে গোপনে বিক্রি করছে আবার কেউ কেটে লবন দিয়ে সংরক্ষণ করছে। তারা ধরাছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। আবার কোন জেলে বলছেন, কে মাছ ধরলো আর কে ধরলোনা আমরা তা দেখিনা। সরকার একটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন মাছ না ধরার জন্য আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে সাগরও নদীতে যাচ্ছিনা। অবার কেউ বলছেন, ‘সরকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে কোন লাভ হচ্ছেনা। গত বছর অবরোধ দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাইনি। সেই অবরোধের সুফলতো পাওয়া যাচ্ছেনা। দেখেন আমরা এবছর আশানুরুপ কোন মাছ পাচ্ছিনা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কড়া নজরদারীতে বিগত বছরের তুলনায় এবার অসাধু জেলেদের তৎপরতা কম দেখা গেছে। এদিকে সরকার জেলেদের অভাবের কথা চিন্তা করে বছরে ৪ মাস ধরে অর্থাৎ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪০ কেজি করে চাল দিয়ে থাকে। ঐ সময়ের মার্চ ও এপ্রিল ২ মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এজন্য সেসময়েই চাল দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বর্তমান ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা না থাকায় অভাবী বহু জেলে পরিবারে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোমিনুল হক বলেন,আমরা বছরের ৪ মাস ৪০ কেজি করে চাল দেই। তবে এই সময়ে জেলেদেরকে বিকল্প কোন সহযোগিতা করা যায় কিনা সেব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করবেন বলে তিনি জানান।
এবারের মৌসুমে সাগরে আশানুরুপ মাছ না পাওয়ায় জেলেরা তেমন ভালো নেই। জেলে পল্লীগুলোতে চলছে হাহাকার। এদিকে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের

একমাত্র উপার্জনের পথ এখন বন্ধ। তাই কখন অবরোধের সময় শেষ হবে আর কখন সাগর নদীতে গিয়ে মাছ ধরে উপার্জনের চাকা সচল করবে সে প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন উপজেলার ১০ হাজারের অধীক জেলে।