সোনাগাজীতে গৃহবধু হত্যা মামলার ৫ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ

96

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি:  ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়নের পূর্ব চরসাহাভিকারী গ্রামে খায়রুন নাহার পিনু (২২) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা মামলার ৫ আসামিকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) ফেনীর আদালতে এজাহারভুক্ত ৭ আসামির মধ্যে ৫ আসামি হাজীর হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। হাজতি আসামিরা হচ্ছে, পূর্ব চরসাহাভিকারী গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে ও নিহত গৃহবধু পিনুর স্বামী মো. মাঈন উদ্দিন, শাশুড়ি অহিদের নেছা, দেবর জসিম উদ্দিন, জা’ কাজল বেগম, জা’ লাকি আক্তার। মামলার অপর দু’আসামি
স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকা ও একই বাড়ির প্রবাসী ফকির আহম্মদের স্ত্রী জীবন আরা বেগম এবং স্বামীর বন্ধু চরচান্দিয়া ইউনিয়নোর পূর্ব বড় ধলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতার পরিবার জানায়, উপজেলার পূর্ব তুলাতলী গ্রামের কলিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ির মো. নূরনবীর কন্যা খায়রুন নাহার পিনুর সাথে ২০১৫ সালের ১মে একই উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের পূর্ব চরসাহাভিকারী গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে মো. মাঈন উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পিনুর পিতা উপহার হিসেবে ৫ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ফার্ণিচার সহ ৪লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল প্রদান করেন। বিয়ের দু’মাস পর মাঈন উদ্দিন ফের প্রবাসে চলে যান। গত কয়েক মাস পূর্বে দেশে এসে মাঈন উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন নতুন ঘর নির্মাণের কথা বলে পিনুর পিতার কাছে ৩লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।  দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে তারা পিনুর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এ দিকে মাঈন উদ্দিন একই বাড়ির প্রবাসী ফকির আহম্মদের স্ত্রী জীবন আরা বেগমের সাথে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত থেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে জীবন আরার সাথে মাঈন উদ্দিন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় পিনু দেখে ফেলেন। দাবিকৃত যৌতুক না দেয়ায় এবং পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় পারিবারিক কলহের জের ধরে উল্লেখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২৪ জুলাই বিকালে মাঈন উদ্দিনের বসত ঘরে পিনুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। অজ্ঞাত স্থান থেকে নিহতার মামা শহীদকে মুঠো ফোনে জানান, আপনার ভাগ্নি পিনু গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে আমাদের বাড়িতে আছে। খবর পেয়ে নিহতার মামা শহীদ সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন চিকিৎসককে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান পিনুর নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। পরনের জামা-কাপড় ছেড়া, শরীরের বিভিন্নস্থানে, মাথায় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। চিকিৎসক তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর পিনুকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ওই দিন রাতে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ পিনুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান। পর দিন ২৫ জুলাই ময়না তদন্ত শেষে পিনুকে পিতার বাড়ির পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়েছে।
ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, পিনুকে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ৫আগস্ট নিহতার ভাই বাদি হয়ে ৭জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সোনাগাজী মডেল থানার মামলা নং-০৩,
তাং-০৫-০৮-২০১৭ইং। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান হাজতি আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।