সোনাগাজীতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে ফেনীর জেলা প্রশাসক

আগে আমি কোরান ও গীতা পড়তাম

92

সোনাগাজী প্রতিনিধিঃ হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় সোনাগাজীর বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় ও সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন।

এবার দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সোনাগাজী উপজেলার ২৩টি মন্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে পূজা পালন করছে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। মন্দির পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় বলেছেন, এখন আমার মাকে প্রণাম করার সময়, আমরা এমনটি আরোধনা করবো যাতে করে আমাদের মন থেকে কুপ্রবৃত্তি গুলো চিরতরে মুছে যায়। কারণ মা’র কাছে সঠিকভাবে আরোধনা করলে মা মানুষের কুপ্রবৃত্তি গুলো নিয়ে যাবে এবং সুপ্রবৃত্তি গুলো জাগ্রত করবে। অসুরকে ধ্বংস করে শুভ শক্তি দিয়ে মা মানুষের কল্যাণ করে যাবে। বৌদ্ধ ধর্মে আছে অহিংস পরম ধর্ম। অথচ মিয়ানমারের বৌদ্ধরা ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে গিয়ে হিন্দু-মুসলমানদের উপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছে। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। কিন্তু ইসলামের নামে যারা জঙ্গিবাদে জড়িত হয়, তাদের মধ্যে মানবিক কোন মূল্যবোধ নেই। আমি আগে গীতা ও কোরান পড়তাম। কারণ আমি মানুষ হিসেবে কোন ধর্মে কি আছে, তা জানতে হবে। কোরান পড়ে ইসলাম সম্পর্কে জানতে হবে আর গীতা পাঠ করে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে। আমি যদি সব ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে না পারি, তাহলে আমি কুপমুন্ডক হয়ে যাবো।

সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন কোন হিন্দু সম্প্রদায়েরলোককে উৎখাত করতে পারবেনা। সংখ্যালঘু বলে কেউ অবজ্ঞা করতে পারবেনা। আপনারা সবাই জননেত্রি শেখ হাসিনার সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে। পৌরসভার তহবিল থেকে মন্দিরের তহবিলে এক লাখ টাকার এফ.ডি.আর করে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া সোনাগাজীর শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয়  মন্দিরের মাঠ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র খোকন এবং কেন্দ্রীয় মন্দিরের গেইটও নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মো. মইনুল হক আনসারী, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নেজাম উদ্দিন আহমেদ, ফেনী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জিপি এডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত, সাধারন সম্পাদক শুক দেব নাথ তপন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব  খগেশ দত্ত, সোনাগাজী পূজা উদযাপান পরিষদের সাধারন সম্পাদক সমর দাস, জেলা সহ-সভাপতি নেপাল দন্দ্র দাস, তপন বসাক, দফতর সম্পাদক যতন মজুমদার, যদু লাল সাহা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। তারা এসময় উপজেলার  শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় মন্দির, সাতবাড়িয়া গোবিন্দ মন্দির, কুঠির হাট কালি মন্দির সহ কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন।