সোনাগাজীতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

15

বিডিসংবাদ ডেস্কঃ  সোনাগাজীতে গৃহবধুকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় রবিবার দুপুরে ফেনীর আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গৃহ কর্মচারী আবদুল্লাহ রানা (২২)।

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হারুনুর রশীদ জানান, সোমবার সকালে থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত শুক্রবার সকালে সোনাগাজীর পৌর এলাকার চরগনেশ গ্রামের নতুন শেখ বাড়িতে গৃহবধু শাহানারা আক্তার (৫৫) কে জবাই করে হত্যার ঘটনায়  রবিবার ফেনীর চীপজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদলতের জবানবন্দি দিয়েছে গৃহ কর্মচারী আবদুল রানা।

জবানবন্দিতে রানা জানান, রানার মা হালিমার সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধা শেখ সিরাজ-উদ-দৌলাহর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের কারণে তার নামে জমি লেখে দিতে চাইলে তার স্ত্রী শাহানারা বাধা দিলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ৪/৫ মাস পূর্বে হালিমাকে তাড়িয়ে দেন এবং স্ত্রী শাহানারকে ঢাকায় ভাইয়ের বাসায় তুলে দেন। গত ১৫ জানুয়ারি ঢাকার আত্মীয়ের বাসা থেকে স্ত্রী শাহানাকে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রক্ষিত ৭লাখ ৭৯হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজেকে নমিনী বানিয়ে পোস্ট অফিসে ৫লাখ টাকার এফডিআর করেন শেখ সিরাজ। এদিকে হালিমার মা এবং ছেলেকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন। এছাড়া হালিমার সাথেও তার পরকীয়ার প্রেমের কারণে ফোনালাপ অব্যাহত থাকে। এনিয়ে স্ত্রীর সাথে পারিবারিক কলহ লেগে থাকে। এনিয়ে শেখ সিরাজ গৃহকর্মচারী আবদুল্লাহ রানা ও তার নানী খোতেজাকে জমি দেয়ার লোভ দেখিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।  গত শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গরম পানির সাথে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে শারীরিক দূর্বল করে শয়ন কক্ষের খাটের উপর গৃহকর্মী আবদুল্লাহ রানা দু’হাত বেধে কোল (কুশন) বালিশ দিয়ে বুকের উপর চেপে ধরে, তার নানী দু’পা চেপে ধরে এবং মুক্তিযোদ্ধা শেখ সিরাজ ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে জবাই করে এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত হচ্ছেনা ভেবে দা দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এসময় সিরাজ ও গৃহকর্মী রানার রক্তমাখা জামা রানাকে দিয়ে বাড়ির পাশে খালের মধ্যে ফেলে আসে। পরে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রচার করতে থাকে এবং লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ  ঘটনাস্থলে গিয়ে

সন্দেহজনক আচরণের কারণে শেখ সিরাজ, গৃহকর্মী রানা ও তার নানীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এবং পুলিশ দা ও ছুরিটি উদ্ধার করে। পরদিন শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে তাকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা শেখ সিরাজের ভাই শেখ সেলিমের বাধার কারণে তার সন্তানরা মামলা করতে রাজী   হয়নি। এক পর্যায়ে শেখ সেলিম রোরববার সকালে নিজে বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সোনাগাজী মডেল থানার মামলা নং-১৩, তাং-২৮-০১-২০১৮খ্রি.

শেখ সিরাজ সোনাগাজী পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ড চরগনেশ গ্রামের নতুন শেখ বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুনুর রশিদ জানা, শেখ সিরাজ ও খোতেজার রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here