হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় আদালতে যাননি খালেদা, দুই মামলায় সময় মঞ্জুর

26

আদালত প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুরান ঢাকার বকশিবাজারস্থ কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামি ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এরআগে বৃহস্পতিবার সকালে খালেদা জিয়া আদালতে যাবেন বলে জানান চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির ।

কিন্তু হঠাৎ করে শারীরিক অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে পারেননি জানিয়ে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমীর উদ্দিন সরকার সময়ের আবেদন করেন। অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে তা বদলির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদনটি করেছেন খালেদা জিয়া। যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে সময়ের আবেদনে উল্লেখ্য করা হয়।

আর চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ৩২ সাক্ষির পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছে যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে জানিয়ে সময় চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেন।

এদিকে খালেদা জিয়া আদালতে আসবেন এজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে প্রশাসন।  সকাল থেকে ঢাকা মেডিকেলের সামনে, পলাশী মোড়, বকশী বাজার এলাকায় কয়েকশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

খালেদা জিয়া নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সিএসএফ এর কিছু সদস্যও আদালতে উপস্থিত হন। খালেদা জিয়ার বসার জন্য এজলাসের সামনে চেয়ার এবং টেবিলের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে পানির বোতল এবং টিস্যু রাখা হয়।

খালেদা জিয়া আদালতে আসবেন এজন্য বিএনপি নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ কয়েক নেতা আদালতে এসে হাজির হন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৮ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

এতিমদের জন্য বিদেশি থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে জিয়া অরফানেজ মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটে খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে আসামি করা হয়।

আসামি তারেক রহমান সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশের বাইরে আছেন। মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ জামিনে আছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু হতেই পলাতক।

দুই মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তৎকালীন বিচারক বাসুদেব রায়  চার্জগঠন করেন।