এক মরণ ঘাতক : আর্সেনিক

আর্সেনিক সমস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ন পরামর্শ দিয়েছেন ব্রাজিল সাও পাওলো থেকে ড. মোহাম্মদ এফ ই হাসান

232

ড. মোহাম্মদ এফ ই হাসানঃ  আর্সেনিক হচ্ছে একটি খনিজ পদার্থ , যার কোনো গন্ধ , বর্ণ এবং স্বাদ নেই।  এটি পানিতে দ্রবীভুত হয় না।  যেই সব এলাকায় মাটিতে আর্সেনিক রয়েছে, প্রাকৃতিক ভাবে সেই সব এলাকার পানিতে ও আর্সেনিক পাওয়া যায়। টিউবয়েল, কূপ এবং কৃষিকাজে ব্যাবহৃত পানিতে সাধারণত আর্সেনিক পরিলক্কিত হয়। কলকারখানা থেকে আর্সেনিক বর্জ্য হিসেবে নিঃসৃত হয়, যা শরীরের মাঝে প্রবেশের ফলে ও আর্সেনিকের বিষক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। ​

আর্সেনিক হচ্ছে একটি বিষাক্ত পদার্থ , যা শরীরের মাঝে একটি বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।  এই বিষাক্ত প্রতিক্রিয়াকে আর্সেনিকোসিস বলে। সাধারণত, স্বাদ এবং গন্ধ থেকে পানিতে আর্সেনিকের প্রভাব বুঝার উপায় নেই। তবে , কেমিক্যাল টেস্টের অথবা সাইন্স ল্যাবরোটারির উদ্ভাবিত ডিভাইসের মাদ্ধমে নিশ্চিত করা যায়।

আর্সেনিকের বিষক্রিয়ার ফলে নিম্নবর্ণিত উপসর্গ গুলো প্রকাশ পায়:

  • মাথা ঘুরায় ।
  • বমি বমি ভাব হয়
  • বমি
  • অস্থিরতা
  • খিঁচুনি ভাব , ইত্যাদি

পানির মধ্যে  আর্সেনিকের প্রভাব মূত্র থলি , কিডনি , ফুসফুস , লিভার এবং স্কিনের ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে।  বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে , আর্সেনিক কেন্দ্রীয় এবং পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম, হার্ট এবং ধমনীর মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে । এ ও দেখা গেছে , জন্ম বিকৃতির কারণ ও হতে পারে।

#কিভাবে পানি আর্সেনিক মুক্ত করা যায়?
পানি আর্সেনিক মুক্ত করার জন্য দুইটি পদ্ধতি বিশ্বে বহুল পরিচিত।

বটম অ্যাশ (Bottom Ash): আয়রন রাস্ট মিশ্ৰিত কয়লা আর্সেনিকের সাথে যুক্ত হয়ে একটি নূতন রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে।  যাতে করে ফিল্টার করার মাদ্ধমে সহজেই আর্সেনিককে আলাদা করে , পানি আর্সেনিক মুক্ত করা যায়।

ইলেক্ট্রো ক্যামিক্যাল আর্সেনিক রিমোডিয়াসন (ECAR) : এই মেথডটি স্বল্প পরিমানে বিদ্যুৎ পরিচালনার মাদ্দমে আর্সেনিক যুক্ত পানিতে রাস্ট সৃষ্টি করে।  রাস্ট আর্সেনিকের সাথে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে। যাতে করে আর্সেনিককে সহজেই পানি থেকে আলাদা করা সম্বব হয়।

আর্সেনিক এর বিষক্রিয়া থেকে পরিত্রান পেতে : বেশ কয়েক বছর আগে , বাংলাদেশী এবং ফরাসি বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিক এ আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে স্পিরুলিনা চমৎকার কাজ করে। বাংলাদেশী গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত এক গবেষণায় এ ও দেখা যায় , আর্সেনিক এ আক্রান্ত যে সব রোগীগুলোকে স্পিরুলিনা দেওয়া হয়েছিল , তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, যাদের দেওয়া হয়নি তাদের থেকে ৮২% বেশি।

বাংলাদেশ সরকারের এক জরিপ থেকে জানা যায় যে , প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে আর্সেনিকে আক্রান্ত।  প্রায় ৫৯ টি জেলায় কোনো না কোনো অংশে টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে।

ঢাকায় অনুষ্টিত এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সম্মেলনে সুপারিশ করা হয় , স্পিরুলিনা দ্বারা আর্সেনিকে আক্রান্ত  রুগীদের চিকিৎসা করার জন্য।

আর্সেনিক এর বিষক্রিয়া থেকে পরিত্রান পেতে , আসুন আর্সেনিক মুক্ত পানি এবং নিয়মিত স্পিরুলিনা সেবন করি।

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ এফ ই হাসান

সাও পাওলো, ব্রাজিল