সরকার রক্ষায় পুলিশ, জনতার কে?

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কৌশলে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেই শুধু ক্ষান্ত হননি সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরী ও তার দলের নেতাদের সঙ্গেও ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালো আচরণ করেনি। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনতার সেবক হিসেব প্রতিশ্রুতিশীল। বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির প্রধানের প্রতি অবরুদ্ধাদেশ নিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও পুলিশের বক্তব্য ছিলো সরকারে থাকা মন্ত্রী-এমপিদের মতোই।

294
আহমেদ তেপান্তর

আহমেদ তেপান্তর: প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বার্হী ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্র ব্যবস্থা দ্বারা চালিত হবে এটুকু সকলেই জানেন। নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থার নাম সরকার। জনগণর সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের নির্বাচন করে মহান সংসদে পাঠান। তারা সরকার গঠন করে। এরমধ্য দিয়ে তারা নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারপ্রাপ্ত হন। এভাবে সব চলার কথা থাকলেও কখনো কখনো নির্বাহী ক্ষমতাপ্রাপ্তরা কর্তৃত্ববাদের মতোই রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা ভাবতে শুরু করে বিপত্তিটা তখনই বাধে। এ দৃশ্যটার সঙ্গে বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের জনগণ গত তিন বছর ধরে খুব পরিচিত।

সূত্রপাত হুট করেই হয়নি। ২০১৪ সালের বহুল বিতর্কিত একতরফা ভোটবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত। সংবিধানের নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে ঢাউস সাইজের সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন মহাজোট। ফলে সংসদে সুস্থ-অসুস্থ, সন্ত্রাস, স্বাধীনতা বিরোধী, বিকৃত মস্তিস্ক, হাইব্রিড নেতাদের একচ্ছত্র প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এরই খেসারত জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে যে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের বিতর্কিত এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন লিটনকে। সরকার বহুভাবে জামায়াতকে জড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষপর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘লিটন হত্যা একটি বিচ্ছন্ন ঘটনা।’

সদ্যপ্রয়াত এমপি লিটনের গুলিথে আহত শিশু। ছবি: সংগৃহীত।

এমপি লিটন যখন শিশুর পায়ে গুলি করে তখনো তার পক্ষে সরকারি মন্ত্রী-এমপিদের দরদ দেখেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুব বেশিদিন না পেরোতেই নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়েছে পেশীবহুল এই এমপিকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতে পারি- ‘তিনি (লিটন) ভগবানের দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হয়েছেন।’ সুশাসন আর অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে যদি এভাবে অক্কা পেতে হয় তবে উন্নয়নের দাবিদার এই সরকারের সুশাসন নিয়ে ঘটা করেই প্রশ্ন তোলা যায়।

ভোটবিহীন ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ জোট সরকার বিএনপি-জামায়াতকে শায়েস্তা করতে রাজনৈতিক কৌশলের নামে নেক্কারজনক সব পথ মারিয়েছে সরকার।

গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বালুরট্রাক। ছবি : সংগৃহীত।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কৌশলে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেই শুধু ক্ষান্ত হননি সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরী ও তার দলের নেতাদের সঙ্গেও ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালো আচরণ করেনি। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনতার সেবক হিসেব প্রতিশ্রুতিশীল। বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির প্রধানের প্রতি অবরুদ্ধাদেশ নিয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও পুলিশের বক্তব্য ছিলো সরকারে থাকা মন্ত্রী-এমপিদের মতোই। কখনো কখনো একধাপ এগিয়ে। অথচ খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের পাশেই বালুভর্তি ট্রাক আড়াআড়ি করে রাখা ছিলো দীর্ঘদিন। আমাদের ভাগ্য ভালো গণমাধ্যম সেগুলো ধারণ করেছে। রাজনৈতিক মতভেদে দেশ-বিদেশের সবাই এই হঠকারিতা প্রত্যক্ষ করেছে। কঠোরভাবে বিরোধী দলকে দমাতে উপঢৌকনের প্রলোভনে পুলিশকে বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ডকে সায় দিয়ে গেছে/যাচ্ছে। বিরোধী দলের সব কর্মকান্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুলিশের নির্মম আচরণ হরহামেশাই দেখছে দেশবাসী।

পুলিশের নির্যাতন থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশুরাও। ছবি : সংগৃহীত।

এর পরপরই জ্বালাও-পোড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। ঘটনা কারা ঘটনাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেদিকে না গিয়ে সরকারি অভিযোগে গা ভাসাতে সংস্থাটির উৎসাহ দেশ ও জনগণকে সংকটের মুখে ফেলে। বিভিন্ন সূ্ত্রে জেনেছি- সরকারের অভিযোগ পেট্রোলবোমার পেছনে বিএনপি-জামায়াত দায়ী। তাদের অভিযোগ অবশ্যই সত্য। যার দর ছিল বোমা প্রতি ৬-৮ শ’ টাকা। সত্য।ওই বোমা মারাতে গিয়েও বিএনপির অনেক নেতা কর্মীদের টাকা মেরে খেয়েছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। দলটির নেতারা যে খুচরো দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত সেটা আবারও প্রমাণ দিয়েছেন সংকটের ওইসময়। বহুনেতাকর্মী মামলা নিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও দলীয় ফায়দা লুটেরা আইনজীবীদের মহাজনদের মতো আচরণের অভিযোগও করেছেন বহু বিএনপি কর্মী। ফলশ্রুতিতে কর্মীদের পরে আর রাস্তায় দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে আনতে মতিঝিল-গুলিস্থান এলাকার সরকার সমর্থিত যুবলীগ-সেচ্ছাসেবক লীগ ব্যাপক জ্বালাও-পোড়ায় করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। প্রতি পেট্রল বোমা নিক্ষেপে ৫-৮ হাজার টাকা করে নেতারা অগ্রিম দিয়েছেন। অন্তত ১০ জন নেতা এমন ঘৃণ্য কর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ সময় গুলিস্থান-মতিঝিলে টোকাইদের বোমা হামলায় পকেট ভারি হয়েছে বেশ।

তেজগাঁও-এ দুই প্রথম আলোর দুই সাংবাদিককে লাথি মারছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত।

পেট্রল হামলার সংস্কৃতি নতুন না হলেও নির্বাচনের পরপরই চালুর দায় বিএনপিকে নিতে হবে এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সরকার দ্রুত পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অঘোষিতভাবে নিজেদের সংগঠনের উইং করে নিলো। ঊর্ধ্বতন পদগুলো পদ্মার ওপারের করে তাদের ইচ্ছার বাস্তবায়নকে আরো সুসংহত করলো। সুতরাং পেট্রলবোমা হামলাকারী সবাই বিএনপি-জামায়তের কর্মী বলেই পুলিশ থেকে প্রেস ব্রিফিং ছিলে নিয়মিত।

সরকারের রাজনৈতিক কূটচালে পুলিশ-র‌্যাবের হাত ধরাধরি করার এই সংস্কৃতির বলি সাধারণ জনতা। সরকারের ছত্রছায়ায় ইন্দনদাতারা দূরে বসে গোঁফে তা দিচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এভাবে জনতার মুখোমুখি কতটুকু স্বস্তিদায়ক তা ভাববার সময় হয়েছে।

চলতি বছরে ৫ জানুয়ারি আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ী বছরে ১৯৫ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুম হয়েছেন ৯৭ জন। রাজনৈতিক কোন্দলে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১৭৭টি (এরমধ্যে বিরোধী শিবির অনুপস্থিতর সুযোগে থাকলেও উপজেলা নির্বাচেন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর মধ্যকার কোন্দলে ১০৫ জন নিহত হয়)।

এদিকে একই সময়ে অধিকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করেছে ১৭৮টি। আর গুমের ঘটনা রেকর্ড করছে ৯০টি। বিদায়ী বছরে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৬৩ জন।

২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি মামলায় আসামি প্রায় পাঁচ লাখ বিএনপি নেতাকর্মী। স্বয়ং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা চলমান।

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের অন্যতম আসামী সাবেক র‌্যাব কর্মকতা ও মন্ত্রী জামাতা তারেক সাঈদ। ছবি : সংগৃহীত।

এ চিত্রটা সরকার-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদ্বভাবের প্রকাশ তার আর বলার অপেক্ষা রাখে না।নারায়ণগঞ্জের সাত হত্যাকাণ্ড এর জ্বলন্ত প্রমাণ। যদিও আদালতের নির্দেশনায় বাহিনীকে নয় বরং র‌্যাবের বিপথগামী মুষ্ঠিমেয় সদস্যর কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। যার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং র‌্যাবের ডিজির ভাষ্যমতে, ‘র‌্যাবের নয়। পুরোটাই ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙঙ্খা।’ সাত হত্যাকাণ্ডে ২৬ ‍মৃত্যুদণ্ডাদেশ এমন রায়ে আমজনতার পাশাপাশি বিএনপিকে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখেছি। কিন্তু হতাশার কথা হলো এমন ঘটনার পেছনে গণতন্ত্র আর সুশাসনের অভাবই দায়ী তা কেউ বলল না?

একটু পেছনে তাকালে আমরা সাত হত্যায় অন্যতম শীর্ষ অপরাধী সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময় বেশকিছু গুম, অপহরেণর অভিযোগ পাই।

২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার আগে ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জেই আরও কিছু গুম খুনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি তার জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

গুমের শিকার বিএনপির প্রভাবশালী জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী। ছবি: সংগৃহীত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার কাঠগড় এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে নিখোঁজ হন লক্ষ্মীপুর হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক। তার স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১-র সিও তারেক সাঈদের নির্দেশে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

গুমের শিকার বিএনপির সাবেক এমপি হিরু। ছবি: সংগৃহীত।

একইরকম অভিযোগ কুমিল্লার লাকসামের সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবীর পারভেজ নামের দুই ব্যক্তির পরিবারের। এই ঘটনায় কুমিল্লা আদালতে মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। থানা মামলা না নেওয়ায় তাদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সরাসরি তারেক সাঈদের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেছিলেন হিরুর ছেলে রাফসানুল।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের কর্মী ইসমাইল হোসেনকে অপহরণের অভিযোগ তুলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ইসমাইলকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে র‌্যাবের কর্মকর্তা তারেক সাঈদ সরাসরি তাদের কাছে দুই কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। সাত খুনের ঘটনার তিন মাস আগে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে ইসমাইলকে (৫০) তার এক বন্ধুর সামনে থেকে অপহরণ করা হয়। এ অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ বলে, আমাদের কিছুই করার নেই।

ওইসময় এসব অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখলে হয়তো সাত হত্যার মতো জঘন্য ঘটনার মুখোমুখি হতে হতো না আমাদের। সরকারের অনেক নজরকাড়া উন্নয়নও তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ হতো না।

শাহবাগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশের নির্মম পিটুনির শিকার হন এটিএন নিউজের এই সাংবাদিক। ছবি: সংগ্রহীত।

একইভাবে পুলিশের ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, চেইন অব কমান্ড অমান্যসহ বিস্তর অভিযোগের তীরে বিদ্ধ পুলিশ বাহিনী। টাকা না পেয়ে নির্যাতন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সংবাদকর্মীদের মারধর, দাবিকৃত টাকা না পেয়ে হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশিত। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে দলীয় ছত্রছায়ায় বিরোধীমত ও ব্যবসায়ীদের ঘায়েল করতে অসাধু পুলিশকে কেউ কেউ ব্যবহার করছে বলেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।  এ ধরনের মুষ্টিমেয় পুলিশ সদস্যের কারণে আজ দেড় লক্ষাধিক সদস্যের বিশাল এ বাহিনীর ইমেজ সংকটে। সবশেষ বাহিনীটি মাঝেমধ্যে সংবাদকর্মীদের মারধর করে সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন একাধিকবার। এ অবস্থায় পেশাদার কর্মকর্তাদের মত হচ্ছে, ‘পুলিশে সংস্কারের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা উচিৎ।’

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

পুনশ্চ: আমরা উল্লেখিত বিষয়গুলোর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সরকারের ইন্দন পাচ্ছি। কিন্তু এ দৃশ্য ভব্যিতেও অব্যাহত থাকবে বা বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেখবো তেমনটা আশা করি না। তাহলে হয়তো দুঃখজনকভাবে এমন লেখা বিএনপিকে অভিযুক্ত করে লিখতে হবে।