রমজানে ডায়বেটিস রোগীর করণীয়

রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞ ডাঃ সাইফউদ্দিন আহম্মদ (সজিব)

130
রমজানে ডায়বেটিস রোগীর করণীয়

ডাঃ সাইফউদ্দিন আহম্মদ (সজিব): ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। এ রোগে রক্তে স্থায়ীভাবে গ্লুকোজ এর পরিমাণ বেড়ে যায়। আমাদের শরীরে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। এই ইনসুলিনের কাজ হচ্ছে রক্তের গ্লুকোজকে ভেঙে তা শরীরের বিভিন্ন কাজে লাগাতে সাহায্য করা। কোনো কারণে এই ইনসুলিন আপেক্ষিক বা সম্পূর্ণ ঘাটতি হলে বিপাকজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং রক্তের গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে আসার সমস্যা জনিত রোগ নামই ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিস যে কোনো বয়সে, যে কারও হতে পারে। তবে নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এবং সাস্থ্যসম্মত উপায়ে জীবনযাপন করলে এই চিরস্থায়ী রোগকে অনেকটা নিরাময় করা যায়।

# যাদের ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তারা হলেন :
* যাদের বংশে এই রোগ আছে।
*যাদের ওজন বেশি এবং শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না।
*গর্ভাবস্থায় এই রোগ হতে পারে।

# ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ সমূহ :
* ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
* খুব বেশি পিপাসা লাগা।
* অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা।
* পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া।
* অল্পতেই  ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা ।
* শরীরের কোনো ক্ষত স্থান শুকাতে দেরি হওয়া।

# রমজানে ডায়াবেটিক খাবার:
ডায়াবেটিক রোগীদের অবশ্যই ইফতার, রাতের খাবার এবং সেহরী নিয়ম মতো খেতে হবে। বাজারে প্রচলিত শরবতে সুগার থাকে বলে তা খেতে পারবেন না। তবে পানিশূন্যতা রোধ এবং শরীরে বিপাকক্রিয়ার জন্য লো ক্যালরি বা সুইটেনিং সুগার দিয়ে ইসবগুল, তোকমা, লেবু, কাঁচা আম বা তেঁতুল মিশিয়ে শরবত করে খেতে পারেন। একটি খেজুর, না হলে অন্য যে কোনো এক ধরনের ফল ইফতারে খাওয়া যাবে।  খাদ্যে যেন প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাছ-মাংস ও সবজি পরিমাণ মতো খাওয়া যাবে। কোন খাবারেই তেল যাতে বেশি না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখবেন। ডায়াবেটিক রোগী রাতে এবং সেহ্রীতে দুই বেলাই ভাত খেতে পারেন। সন্ধ্যারাতের খাবার একেবারেই বাদ দেওয়া উচিত নয়। সন্ধ্যারাতের খাবার অন্যান্য সময়ের রাতের খাবারের সমপরিমাণ ও সেহরীতে অন্যান্য দিনের দুপুরের খাবারের সমপরিমাণ হবে। মাংসের পরিবর্তে ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। যাঁদের কিডনির রোগ ও উচ্চমাত্রার ইউরিক এসিড ইত্যাদি আছে, তারা ডাল জাতীয় খাবার মেনু থেকে বাদ দিবেন। অনেকের ঘা জনিত সমস্যায় ডুবো তেলে ভাজা ও ঝালযুক্ত খাবারের বদলে চিড়া-মুড়ি খাওয়া যাবে। অন্যান্য খাবার একই থাকবে। যাদের ওজন বেশি, তারা কম তেল ও কম ক্যালোরী যুক্ত খাবার খাবেন। রোজা রেখে হালকা ব্যায়াম করলে রক্তে কোনো সমস্যা নেই।

# রোজায় রোগীর ঔষধ এবং ইনসুলিনের ব্যবহারে করণীয়:
যারা দিনে ১ বার ঔষধ খান, তারা ঔষধটি একই মাত্রায় ইফতারের সময় খেতে পারেন। যারা দিনে ২ বার ঔষধ খান, তারা ইফতারের শুরুতে ঐ একই মাত্রায় এবং রাতের মাত্রাটি অর্ধেক পরিমাণে সেহরী সময় খেতে পারেন। যারা মেটফরমিন দিনে ৩ বার গ্রহণ করেন, তারা ইফতারের পর মাত্রাটির ২/৩ ভাগ এবং সেহ্রীর পর ১/৩ ভাগ ভরা পেটে খেতে পারেন। যারা রিপাগ্লিনাইড অথবা নেটিগ্লিনাইড জাতীয় ঔষধ খান, তারা ইফতারের শুরুতে ও সেহ্রীর আগে অথবা সন্ধ্যা রাতে খাবার খেলে তার  আগেও  খেতে পারেন।
যে সকল রোগী ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাদের রমজানের পূর্বেই ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক করে নিবেন। যারা ১ বার ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তারা ইফতারের সময়ে নিবেন। ২ বারের খেত্রে ইফতারে সকালের ডোজ এবং সেহ্রীতে রাতের ডোজর ১/২ ভাগ নিবেন। ৩ বারের ক্ষেত্রে ইফতারে সময় দুই ভাগ এবং সেহরীতে রাতের ১/২ ভাগ নিবেন।

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রে অবস্থিত শমরিতা হাসপাতাল যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষদের সবচেয়ে সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত সেবা দিয়ে আসছে । আপনি আমন্ত্রিত

#যাদের জন্য রোজা প্রোযোজ্য নয়:
* টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগী।
* ডায়াবেটিক  কিটোএসিডোসিস রোগী ।
* যাদের  HbA1C পরিমাণ ১২% এর ওপরে।
* গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস।
* যে সব রোগী বার বার হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
* ডায়াবেটিসের  সঙ্গে অন্য কোনো জটিলতা যেমন:- কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ইত্যাদি থাকে।

# যে সব কারণে রোজা নষ্ট হবে না:
* ইনসুলিন গ্রহণ করলে ( চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন)।
* যে সকল ইনজেকশন চামড়া, মাংসপেশি, জয়েন্ট অথবা শিরা দিয়ে দিতে হয় (ইনজেকশনের মাধ্যমে খাওয়ানো যাবে না)।
* ল্যাবরেটোরি টেস্টের জন্য রক্ত দিলে।
* মাউথ ওয়াশ, গার্গল অথবা মুখের স্প্রে ব্যবহার করলে (পাকস্থলিতে প্রবেশ করানো যাবে না)।
* ইনহেলার ব্যবহার করলে।
* নোজ ড্রপস্ এবং নোজ স্প্রে ব্যবহার করলে।
* এনডোস্কপি ডায়াগনস্টিক  বা  অন্যান্য ইন্টারভেনশন করলে।
* চোখ ও কানের ড্রপস্ ব্যবহার করলে।
* নাইট্রোগ্লিসারিন ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে রেখে এনজিনার চিকিৎসা নিলে।
* ব্লাড ডোনেশন এবং ব্লাড ট্রান্সফিউশন করলে।
* যে সকল ঔষধ চামড়া দিয়ে শোষিত হয় যেমন:- ক্রীম, অয়েন্টমেন্ট, লোশন এবং মেডিকেল প্লাস্টার ব্যবহার করলে।
* এনডোস্কপি ডায়াগনস্টিক বা অন্যান্য ইন্টারভেনশন করলে।

ডাঃ সাইফউদ্দিন আহম্মদ (সজিব)
এমবিবিএস, সিসিডি (বারডেম), পিএইসডি (জাপান)
ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
সিইও
ডায়াবেটিক, হাইপারটেনশন ও এন্ডোক্রাইন সেণ্টার
শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেড

বিডিসংবাদ/এএইচএস