রুবাইদা গুলশানের ‘বিভ্রমে নীলাম্বরী’র মোড়ক উন্মোচন

32

কবি ও কথাশিল্পী রুবাইদা গুলশান রচিত কবিতার বই ‘বিভ্রমে নীলাম্বরী’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় অমর একুশে বইমেলায় বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইংল্যান্ড-এর (অস্ট্রেলিয়া) অধ্যাপক হাবীব জাফরুল্লাহ।

নিজের ‘বিভ্রমে নীলাম্বরী’র গ্রন্থে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন রুবাইদা গুলশান। ছবি: জিয়া হক।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ছড়াকার ও সিনিয়র সাংবাদিক আতিক হেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক মাসুদ আলম রনি, আইসিডিডিআরবি-র গবেষক শারলিন আকতার মুন্নি, তরুণ কবি ও সাংবাদিক জিয়া হক, তরুণ সাংবাদিক ওমর ফারুক সেলিম, কাঠবিড়ালি সম্পাদক ও তরুণ ছড়াকার নাছিব মাহদী।

অধ্যাপক হাবীব জাফরুল্লাহ বলেন, “আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ছাত্রী রুবাইদা গুলশান। ওর লেখা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে। ‘বিভ্রমে নীলাম্বরী’র বেশ কিছু কবিতা আমি আগেই পড়েছি। প্রতিটি কবিতাই আমার ভালো লেগেছে। তার কবিতার বিষয়বস্তু, চিন্তা ও ভাবনার প্রকাশ অন্যদের থেকে আলাদা। রুবাইদার কবিতায় ফুটে উঠেছে দেশপ্রেম, ভালোবাসা ও যাপিত জীবনের নানা দিক।”

তিনি বলেন, “সংসার গোছান রুবাইদা। ওর দুটো ফুটফুটে শিশু আছে। তাদের সামাল দিয়ে কিভাবে কবিতা লিখে সেটাই আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়। আমি ভেবে পাই না। কবিতা ও লেখালেখির প্রতি অসীম ভালোবাসা না থাকলে এটা সম্ভব নয়। আমরা ওর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইংল্যান্ড-এর (অস্ট্রেলিয়া) অধ্যাপক হাবীব জাফরুল্লাহ। ছবি: জিয়া হক।

আতিক হেলাল বলেন, “কবি রুবাইদা গুলশানের কয়েকটি কবিতা আমি পড়েছি। লেখাগুলো চমৎকার। কবিতার বইটি কিনলে পাঠক নতুন কিছু পাবেন। সুন্দর কিছু ঘরে নিয়ে ফিরতে পারবেন তারা।”

নিজের বইয়ের নামের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে কবি রুবাইদা গুলশান জানান, “কবিতাগুলো লিখতে গিয়ে আমি কখনো কখনো বিভ্রমে পড়েছি। চিন্তার দ্যোদুল্যতায় ভুগেছি। কিছু কিছু কবিতা লেখার সময় আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। আবার আমার ডাক নাম নীলা। যেহেতু আমি নিজেই বিভ্রমে পড়েছি তাই বইয়ের নামও নীলার সাথে মিলিয়ে রেখেছি ‘বিভ্রমে নীলাম্বরী’।
মাসুদ আলম রনি বলেন, “কবিদের একধরনের প্রসববেদনা থাকে। সেই অব্যক্ত বেদনার সূত্র ধরেই তারা কবিতা রচনা করেন। কবিরা নবির মতো। তারা আমাদের পথ দেখান। আমার বন্ধু রুবাইদা গুলশানের কবিতাও আমাদের জীবনে চলার পথে প্রেরণা দেবে। ভালোবাসার শক্তি যোগাবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যরা কবির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা ও বইটির প্রচার ও প্রসার কামনা করেন।

রুবাইদা গুলশানের জন্ম ঠাকুরগাঁওয়ে। পৈতৃক নিবাস যশোর। বাবা আতাউর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার এবং মহান মুক্তিযোদ্ধা। মা সালেহা রহমান গৃহিণী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ হতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রুবাইদা গুলশান। স্বামী গোলাম সরোয়ার একজন চিকিৎসক। অমর একুশে বইমেলা ২০১৬-তে রুবাইদা গুলশানের উপন্যাস ‘অন্তরালে বর্ণফুল’ প্রকাশিত হয়।