সাগর-রুনি হত্যা মামলা: আদালতে র‌্যাবের অগ্রগতি প্রতিবেদন

38

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নাহার হত্যা মামলায় র‌্যাব ২ বছর পর তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে।

গত ১৫ মার্চ ওই প্রতিবেদন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ আদালতে দাখিল করেন।

মঙ্গলবার ওই প্রতিবেদন আদালত উপস্থাপন হলে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম আড়ামী ২ মে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছিল র‌্যাব।

দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মামলায় গতানুগতিক তদন্ত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অত্যাধুনিক তদন্ত পদ্ধতি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণপ্রাপ্তির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২টি অত্যাধুনিক ল্যাবকে এ তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বেশ কিছু আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ল্যাব ২টি থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,  ঘটনাস্থল থেকে চুরি যাওয়া ভিকটিম সাগর-রুনির ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কি না এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে পত্রযোগাযোগ অব্যাহত আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার ভিকটিমদ্বয় মিডিয়া কর্মী হওয়ায় তদন্তকালে ২৭ জন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃত ৮ জন আসামীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। মার্কন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরিত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার মতামতে ঘটনার সময় দুইজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যাক্তির উপস্থিতি পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ আছে। উক্ত পলাতক অজ্ঞাত ২ জন ব্যাক্তিকে সনাক্ত করণের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকার থানাসমূহের মধ্যে শেরেবাংলানগর, মোহাম্মাদপুর, ধানমণ্ডি, কলাবাগান থানাসহ বিভিন্ন থানার চুরি, সিঁধেল চুরি ও দস্যুতাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে এই মামলায় তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। বিশ্বস্ত গুপ্তচরের মাধ্যমে গোপনে ও প্রকাশ্যে অনুসন্ধান করে মামলার প্রকৃত আসামিদের চিহিৃতপূর্বক গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের মধ্যে তানভীর জামিনে আছেন।

২০১২ সালের বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।