শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ও সমাধান

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ ও সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পারভীন আক্তার

303
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পারভীন আক্তার
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ পারভীন আক্তার

ডাঃ পারভীন আক্তারঃ কোষ্ঠকাঠিন্য শিশুদের প্রায় হয়ে থাকে । শিশু যদি দেরীতে মলত্যাগ করে। সপ্তাহে ৩ বার  বা তার কম পায়খানা করে, মল পরিমানে কম, শক্ত ও গুটি হয় এবং মল ত্যগ  ব্যাথা ও কষ্ট হয়। তবে সে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য আছে।

সাধারণত মায়ের বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চা ৫-৬ বার হলুদাভাব পটি করে তা স্বাভাবিক।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বাচ্চা কম খায় । শিশুর  কম খাওয়া – কোষ্ঠকাঠিন্য- কম খাওয়া-কোষ্ঠ কাঠিন্য  এই চক্রটি সমস্যাটিকে আরো জটিল করে তুলে। সমস্যাটি সাধারণত শিশু যখন শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে (৬-১২ মাস) তখন থেকে শুরু হয়।  সাধারণত কম আঁশযুক্ত খাবার। পটি ট্রেনিং  ভাল না হলে এ সমস্যা দেখা যায়। মাঝে মাঝে থাইরয়েড হরমন কম থাকলে এ সমস্যা হয়। এ জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘায়িত হলে চিকৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তা না হলে হরমোনের অভাবে শিশুর ক্রম বিকাশ কম হবে।

 

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হবার কারণঃ

* শিশুর জন্মগত বিরল রোগ HIRSXHPRUWG DISEASE (জন্মগত পায়ুপথ/ রেকটামের সমস্যা) হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। শিশুর জন্মের পর আলকাতরার মত পায়খানা(Meconium) ত্যাগ করতে দেরী হয়। চিকিৎসক তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন। প্রয়োজনে অপারেশন দিয়ে থাকে।

পায়খানা শক্ত হলে শিশু মল ত্যাগ করতে শিশু নিদারুণ ব্যাথা পায়। তাই পরবর্তীবার মল ত্যাগ সে সাময়িকভাবে এড়িয়ে চলে। ফলে মল থেকে পানি শোষিত হয় । মল আরও শক্ত হয়ে যায়। শক্ত মল নরম মলদ্বার দিয়ে বেরোবার সময় সে খুব ব্যাথা পায়। সে যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবার জন্য সে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য ও ক্ষুধামন্দা এক সাথে চলতে থাকে।

 

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্য সেবায় সবসময় শমরিতা হাসপাতাল।

#চিকিৎসার প্রধান তিন দিকঃ

১. শিশুকে যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি ,পাঁকা পেপে , গাজর, ব্রোকলি, পাঁকা বেল, ঢেঁড়শ, মিষ্টি কুমড়া, পাঁকা কলা ইত্যাদি খাবার খাওয়াতে হবে।

২. উপযুক্ত পটি ট্রেনিং যেমন মল ত্যাগের সময় উপযুক্ত আসনে বসানো, শিশুর পা  যেন উপযুক্ত আসনে বসানো, শিশুর পা যাতে মেঝের উপর ভর করতে পারে এভাবে মল ত্যাগে উৎসাহিত করা। নির্দিষ্ট সুবিধা জনক সময়ে মল ত্যাগ করানোর অভ্যাস করাতে হবে। পটি না করার জন্য তাকে তিরস্কার করা যাবে না।

৩. মল নরম করানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে বিভিন্ন ঔষুধ যেমনঃ Lactulose,Milk of Magnesia, Iusbgul Husk, Polyethylene Glycol ইত্যাদি ব্যবহার করাবেন।

অনেক সময় এই সমস্যার জন্য মলদ্বারে চুনা বা Enema দেওয়া যেতে পারে।

#কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য মলদ্বারের জটিলতা ও চিকিৎসাঃ

কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য শিশুর মলদ্বার ছিরে যেতে পারে তাকে বলে Anal Fissure

এটা খুব বেদনাদায়ক। যা মলত্যাগে বাধা দেয়। Anal Fissure থেকে পরে অতিরিক্ত চামড়া AnalTaj হয়ে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ব্যাথানাশক মলম লাগাতে হবে।  প্রয়োজনে শিশুকে হাস্পাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।

#কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যান্য জটিলতাঃ

যে সমস্ত শিশুদের কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থাকে, তাদের ঘনঘন প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়ে থাকে।

তাই এইসব শিশুদের প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে হবে ও প্রয়োজন হলে পেটের এক্সরে(x-ray) /আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো উচিত।

বিডিসংবাদ/এএইচএস