অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর হামলাঃ রাবিতে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়

রাবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। রোববার উল্লিখিত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়  প্রতিবাদি সাংস্কৃতিক সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ:
অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল কে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ঘটনার দিন রাতে এক বিবৃতিতে উৎকণ্ঠার সহিত উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিবৃতিতে বলেন, সরকারের নিকট আমাদের আহ্বান, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁর চিকিৎসার সুবন্দবস্ত করা হোক এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হোক।

ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল:
এদিকে ঘটনার সাতে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে দলীয় টেন্ট থেকে মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে পূর্বের স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এদিকে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকবৃন্দ। সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৃথক পৃথক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায়।

সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদি সমাবেশ:
ড. জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদি সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট । দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ কর্মসূচীর আয়োজন করেন তারা।

কর্মসূচীতে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি হামলাকারী বলেছে, জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু! আমরা ১৯৭১ সালেও এই কথাটি শুনেছিলাম যে, এ দেশের মানুষ হলো ইসলামের শত্রু। সুতারং এদেশের সমস্ত মানুষকে মেরে ফেলতে হবে! সেই প্রচেষ্টা হয়েছে। তখন ছিল ধর্মের আড়ালে ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, এখনও এই হত্যাচেষ্টার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে আন্তর্জাতিক শক্তির উৎস।

একাত্তর আর আজকের বাস্তবতা কি? সে সময়ে যুবসমাজকে কথাগুলো বলে বিভ্রান্ত করা যায় নি। এখন বিভ্রান্ত করা যাচ্ছে। যে হত্যা কারি তার মস্তিস্কে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, একে তুমি হত্যা কর পরকালে তুমি অনেক বড় পুরস্কার পাবে। এসময় তিনি উল্লেখ্য করেন এই হামলাকারি একজন মস্তিস্ক বিকৃত ছাড়া কিছুই হতে পারে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ আজম শান্তনু,  দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এস এম আবু বকর, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ কুমার প্রমুখ। সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন, বিশ^বিদ্যালয় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা এসোসিয়েশন, ছোট কাগজ চিন্থ প্রমুখ। প্রতিবাদী সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অন্তর আলী।