অমিতাভ বচ্চনের যে ইচ্ছার বাস্তবতা পায়নি

আহমেদ তেপান্তর


চারবারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। জিতেছেন সর্বাধিক ফিল্ম ফেয়ার। একাধারে ভারত কাঁপানো অভিনেতা। এর বাইরে প্রযোজক, রাজনীতিক, আবৃত্তিকার, উপস্থাপক পরিচয়য়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন দেশের বাইরেও! সেই অমিতাভের একটি ইচ্ছা নিজের সেরা সময়ে থাকা অবস্থায় পূরণে ব্যর্থ হন! আশি ঊর্দ্ধ এই চিরযৌবনা অভিনেতার সেই অভিলাষের কথা বিডিসংবাদ ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
অমিতাভ তখন সোলে, কুলি, কাভি কাভি, হেরি ফেরি, আদালত, ওমর আকবর অ্যান্থনি, ডন দিয়ে বাজার ভারত শাহেনশাহ তকমা বগলদাবা করেছেন। উড়ন্ত সেই অবস্থায় তিনি দেখা করলেন বিশ^বরেণ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়ন মুহম্মদ আলীর সঙ্গে। সময়টা ১৯৭৯।
প্রযোজক প্রকাশ মেহরার আগ্রহে অমিতাভ আলীর সঙ্গে তার বেভারলি হিলসের বাড়িতে যান দেখা করতে। সাক্ষাতও হয় তাদের, কিন্তু স্ক্রিন শেয়ার করা হয়নি এই দুই লিজেন্ডের।
এমন আপসোসের কথাটি অমিতাভই সামনে এনেছিলেন ২০১৬ সালে মুহম্মদ আলীর প্রয়াণকে স্মরণ করে।
এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেছিলেন- “১৯৭৯ সালে, আমি বেভারলি হিলসের তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, আদর্শবান ও সুখী মানুষ। যদিও তার কৃতিত্ব বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত।
প্রকাশ মেহরা (চলচ্চিত্র প্রযোজক) সেই সময়ে একটি চলচ্চিত্র বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি আমাকে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন। যদিও মুহম্মদ আলীর অনাগ্রহে সেই চলচ্চিত্রটি আর নির্মাণ হয়নি; কিন্তু তার সঙ্গে আমার কাটানো মুহূর্তগুলি স্মরণীয় ছিলো।
মুহম্মদ আলীর স্মরণে অমিতাভ আরো বলেন, ‘আলী ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি কেবল রিংয়ের ভিতরেই লড়াই করেছিলেন না, বাইরেও।’
মুহম্মদ আলী ১৭ জানুয়ারি ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৩ জুন ২০১৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একজন মার্কিন পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা ছিলেন। স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড তাকে শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় এবং বিবিসি তাকে শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত করেছে। ১৯৬৪ সালে ২২ বছর বয়সে তিনি সনি লিস্টনকে পরাজিত করে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেন। ফেব্রুয়ারি ২৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবিতর্কিত হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তিনি সম্মান পান এবং এর কয়েকদিন পরেই তিনি নেশন অব ইসলামে যোগদান করে তার নাম পরিবর্তন করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন।
১৯৬৭ সালে আলী তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার অংশগ্রহণের বিরোধিতার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান করতে অস্বীকৃত হন। এর কয়েকদিন পরেই তাকে এই কারণে দোষী সাব্যস্ত করে তার বক্সিং উপাধি কেরে নেওয়া হয়। চার বছর রিংয়ের বাইরে থাকার পর ১৯৭১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়। যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিবেকজনিত কার্যকলাপ তাকে সংস্কৃতি বিরোধী প্রজন্মের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র করে তোলে। বক্সিং জগতে ফিরে এসেই আলী ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেন।