অসদাচারণকারী ছাত্রদের শাস্তির দাবিতে রুয়েট শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ‘৩৩ ক্রেডিট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের সময় অসদাচারণকারী ছাত্রদের শাস্তির দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে প্রথম দিনের মত কর্মবিরতি পালন করেছে শিক্ষক সমিতি। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান করে অর্ধশতাধিক শিক্ষকরা । এদিকে আন্দোলনের ফলে ক্লাস পরীক্ষা না হলেও প্রসাশনিক কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।

এ ব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর নরেন্দ্র নাথ মুস্তাফি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদেরকে পড়াতে চাই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ছাত্রসূলভ অচরণ পায়নি। এটাকে আমরা আন্দোলন হিসেবে নিচ্ছি না, এটা আমাদের প্রতিবাদ অংশ।’
সরেজমিনে দুপুর ২টার দিকে দেখা যায় পুরা ক্যাম্পাসে ফাঁকা। গেটে দারয়ান ছাড়া আর কাউকে দেখা যায় নি। অনেকটা জনশন্যূ পরিনত হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ক্লাস-পরীক্ষা না থাকায় অনেকে আবার বাড়িতে চলে গেছ। ১৫ সিরিজের আরিফুর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না, তাই বাড়িতে চলে যাচ্ছি। শিক্ষার্থী উদ্বোগ প্রকাশ করে বলেন, একের পর এক আন্দোলনে আমরা সেশনজটের আশঙ্কায় ভূগছি। এছাড়া পরিবার আমার নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। আশা করি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রুয়েটে ১৩ সিরিজের ব্যাচ বা ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নূন্যতম ৩৩ ক্রেডিট প্রাপ্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই শিক্ষাবর্ষের মোট ১৬০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৫০ জনের মত শিক্ষার্থী ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে পারেনি। ফলে গত সপ্তাহের শনিবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামে ঐ দুই সিরিজের শিক্ষার্থীরা। পরে গত শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভিসিসহ ২৫ শিক্ষককে টানা ২৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখার পর রোববার ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতি বাতিল করে রুয়েট প্রশাসন। এরপর শিক্ষক সমিতি গত ৭ দিনে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচারণ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, ২৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করা শিক্ষার্থীদের শাস্তি দাবি করে অনিদিষ্টকালের জন্য ক্লস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।