আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রধানমন্ত্রী হওয়া দেখতে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন মাহাথিরকে!

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

অবশেষে আনোয়ার ইব্রাহিম হলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি ১৯৯৮ সালেই ওই পদটি পেতে পারতেন। তিনি তখন ছিলেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ওই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ তাকে বরখাস্ত করেন। পরে তার বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ আনেন। দুর্নীতির অভিযোগও উত্থাপিত হয়।

এই ক্যারিশমেটিক নেতার সমর্থনে হাজার হাজার লোক রাজপথে নেমে আসে। তিনি ‘রিফরমাসি’র তথা সংস্কারের ডাক দেন। তবে মাহাথির ছিলেন অনড়। আনোয়ারকে কারাগারে যেতে হয়। মনে হচ্ছিল, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়ার লোক ছিলেন না। ২০০৪ সালে তিনি সমকামিতার অভিযোগ থেকে খালাস পান। অবশ্য ২০১৫ সালে তাকে একই অভিযোগে আবার জেলে যেতে হয়। কারাগারে থেকেই তিনি ২০১৮ সালে বিরোধী দলের জোট গঠন করেন। এবার তিনি যোগ দেন তার গুরু থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া মাহাথির মোহাম্মদের সাথে। তারা ভয়াবহ দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে নামেন।

তারা জয়ী হন। কথা ছিল মাহাথিরের পর আনোয়ার ইব্রাহিম হবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু মাহাথির তার কথা রাখেননি। তিনি ক্ষমতায় স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি এর ফলে যে ফাঁদে তিনি পা দেন, তার জের ধরে তাকেই ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম আবারো বঞ্চিত হন। আবারো লেগে থাকেন তিনি।

অবশেষে তিনি বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। মালয়েশিয়ার অনেকে এখনো বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারছে না। আবার অনেকে মাহাথির মোহাম্মদকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। মালয়েশিয়ার সামাজিক মাধ্যম এ ধরনের মন্তব্যে এখন ভরপুর।

টুইটারে একজন লিখেছেন : ‌’আল্লাহ মাহাথিরকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রেখেছেন আনোয়ার ইব্রাহিমের মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়া দেখতে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘ভুলে যাবেন না, ডা. মাহাথির কেবল তার জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াই দেখেননি, সেইসাথে তার আনোয়ার ইব্রাহিমকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়া ঠেকাতে গত ৩০ বছর ধরে থাকা তার একমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও ভণ্ডুল হওয়াটা প্রত্যক্ষ করলেন।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘কী একটা বছর। নাজিব জেলে গেলেন। মাহাথির তার জামানত হারালেন। আনোয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন। ইতিহাসকে বোঝা দরকার।’

আনোয়ারের সমর্থকেরা তার স্ত্রীর প্রশংসা করতেই ভোলেননি। তাদের মতে, আনোয়ারের উত্থানে তার স্ত্রী ওয়ান আজিজা ওয়ান ইসমাইলের অবদান অবিস্মরণীয়।

টুইটারে একজন লিখেছেন, ৬৯ বছর বয়স্কা আজিজা হলেন ‘রিফরমাসির জননী।’ উল্লেখ্য, আনোয়ার কারাগারে যাওয়ার পর আজিজাই তার সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সূত্র : আলজাজিরা

বিডিসংবাদ/এএইচএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here