গত এক দশকে ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বার্সেলোনা, চেলসি ও আর্সেনালের

গত এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনা, চেলসি ও আর্সেনালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফরাসি আন্তর্জাতিক স্পোর্টস স্টাডিস সেন্টার সিআইইএস’র নতুন এক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সমীক্ষাটি ২০১৪-২০২৩ সালের মধ্যে চুক্তিভূক্ত ও বিক্রিত খেলোয়াড়দের উপর চালানো হয়েছে।
লা লিগা জায়ান্ট বার্সেলোনা এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬৩১ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিপরীতে লিগ ওয়ানের ক্লাব লিলি ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশী ৩৮৬ মিলিয়ন ইউরো লাভ করেছে।
শীর্ষ ১০ ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবের তালিকায় প্রিমিয়ার লিগের ছয়টি ক্লাব রয়েছে। এই তালিকায় চেলসি ও আর্সেনাল যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পঞ্চম, এ্যাস্টন ভিলা সপ্তম, এভারটন অষ্টম ও লিভারপুল রয়েছে নবম স্থানে।
ক্ষতি ও লাভের পরিমান বিবেচনায় সমীক্ষায় ৫০টি ক্লাবের তালিকা করা হয়েছে। লাভবান হবার তালিকায় শীর্ষ ৫০ ক্লাবের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের দুটি ক্লাব রয়েছে ব্রেন্টফোর্ড (২৬) ও ব্রাইটন (২৯)।
সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেছে শীর্ষ খেলোয়াড়রা যে অর্থের বিনিময়ে কোন ক্লাবে আসে তারা যখন অন্য ক্লাবে যায় তখন তার থেকে অনেক কম অর্থের বিনিময়ে তাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়। যে কারনে ক্লাবগুলো ক্ষতির মুখে পড়ে।
চাইনিজ সুপার লিগের ক্লাবগুলো আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে ৫০টি ক্লাবের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে। এমনকি এই তালিকায় সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর, আল-আহলি ও আল-ইত্তিহাদও রয়েছে। গত গ্রীষ্মে বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে এই ক্লাবগুলো বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড়দের অনেককেই দলে ভিড়িয়েছে।
গত এক দশকে বার্সেলোনা ট্রান্সফার মার্কেটে ১.২ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছে, তার বিনিময়ে গ্রহন করেছে ৬১৩ মিলিয়ন ইউরো। রিপোর্টে জানানো হয়েছে ২০১৮ সালে ১৪২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে লিভারপুল থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন ফিলিপ কুটিনহো। এরপর মাত্র ১৭ মিলিয়ণ পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি এ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেন। এই মুহূর্তে তিনি ধারে আল-দুহাইলে খেলতে গেছেন। ওসমানে ডেম্বেলে ১৩৫.৫ মিলিয়ন ইউরোতে কেনার পর মাত্র ৪৩.৪ মিলিয়ণ ইউরোতে গত গ্রীষ্ম পিএসজিতে তাকে ছেড়ে দিয়েছে বার্সা।
এদিকে ২০১৯ সালে ৫৮ মিলিয়ণ ইউরোতে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে চুক্তিভূক্ত করার পর চেলসি গত এক দশকে ৪৮২ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এরপর গত গ্রীষ্মে তাকে এসি মিলানের কাছে ২০ মিলিয়ণ পাউন্ডে বিক্রি করা হয়। ২০১৮ সালে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে জর্জিনহোকে কিনে ১২ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে আর্সেনালের কাছে ছেড়ে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ১.২ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ তার পরিবর্তে বিক্রি বাবদ পেয়েছে ৭৩০ মিলিয়ন ইউরো।
আর্সেনাল ৪৩৬ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি করেছে। নিকোলাস পেপেকে ৭২ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনার পর গত বছর ফ্রি ট্রান্সফারে তাকে ছেড়ে দেয়।
ম্যানচেস্টার সিটির ক্ষতি ৫৯ মিলিয়ণ ইউরো, বায়ান মিউনিখ ক্ষতি করেছে ৬১ মিলিয়িন ইউরো।
ভিক্টর ওশিমেনের মত স্ট্রাইকারকে বিক্রি করে লিলি ৩৮৬ মিলিয়ন ইউরো লাভ করেছে। তাকে ১০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কিনে পরে নাপোলির কাছে বিক্রি করেছে ৮২ মিলিয়ন পাউন্ডে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস