গাঁজা চাষীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার কথা বলে ১০হাজার টাকা নিলেন ইউপি সদস্য, পরে ফেরৎ

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি


ফেনীর সোনাগাজীতে শনিবার রাতে তিনটি গাছ সহ গ্রেফতার হওয়া মো. আবুল কালাম নামে (৪০) নামে এক গাঁজা চাষীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার কথা বলে ১০হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও আ.লীগ নেতা। অবশ্যই তিনি ২৪ ঘন্টা পর ওই টাকা সোমবার রাতে ফেরৎ দিয়েছেন। তিনি চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক। তার নাম শফি উল্যাহ কালাম। গাঁজা চাষীকে কারাগারে প্রেরণের পর ঘটনাটি জানজানি হলে ৬জুন সোমবার রাত ৮টার দিকে কালামের স্ত্রীকে টাকাগুলো ফেরৎ দেন তিনি।

ভুক্তভোগীর পরিবার, পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের ৬নম্বর ওয়ার্ডের হোনার বাপের দোকান সংলগ্ন মৃত মীর আহম্মদের ছেলে আবুল কালাম একজন গাঁজাসেবনকারী ছিলেন। গাঁজা সেবনের পাশাপাশি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে হয়ে ওঠেন চাষী। তাই নিজের বাড়ির পাশে খালপাড়ে সবজি চাষের সঙ্গে গাঁজা গাছের বীজ রোপণ করে চাষ শুরু করেন তিনি। উৎপাদিত গাঁজা নিজেও সেবন করতেন এবং অন্যদের কাছেও খুচরা মূল্যে বিক্রি করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪জুন শনিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনটি গাাঁজা গাছসহ কালামকে গ্রেফতার করে। সে পেশায় একজন গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। গত বছর গাছ কাটতে গিয়ে গুরুত্বর আহত হন। কিছুটা সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ও খালের পাড়ে শাক সবজি চাষ করেন। এসবের আড়ালেই গাঁজা চাষ করে নিজের চাহিদা পূরণ করে আশপাশের মাদক সেবীদের কাছে নিয়মিত উৎপাদিত গাঁজা বিক্রি করে আসছেন।


ইউপি সদস্য আবুল কালাম টাকা ফেরতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার মুঠোফোনে জনৈক ব্যক্তি ১০হাজার টাকা দিলে কালামকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে একটি নগদ নাম্বারে ১০হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি যেহেতু কালামের স্ত্রী থেকে টাকা গ্রহন করেছেন, তাই তিনি ফেরৎ দিয়েছেন।