গেম অব থ্রোনসের জনপ্রিয়তম চরিত্রে যারা আছেন

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ  সিংহাসনের লড়াইয়ে কে জিতবেন? গত সাত বছর ধরে ঘুরছে প্রশ্নটা। প্রশ্নটা ঘুরছে ‘গেম অব থ্রোনস’-এর হাত ধরে। টিআরপি-র পাকদণ্ডী বেয়ে অনেকটা উঠে গিয়েছে এই টেলি সিরিজ। বিশ্ব জুড়ে দর্শক অপেক্ষা করেন রাজায়-রাজায় এই যুদ্ধ দেখার জন্য। কখনও অনলাইন লিক হয়ে যায় কোনও এপিসোড, আবার কখনও বা চিত্রনাট্যের মুন্সিয়ানায় কোনও চরিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স দর্শকের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ করে। ‘আ সং অব আইস অ্যান্ড ফায়ার’-কে কেন্দ্র করে লেখা ফিকশন প্রথম টেলিকাস্ট হয় ১৭ এপ্রিল ২০১১-এ। তারপর থেকে যাত্রা চলছে সমান তালে। আর মাত্র দু’টো এপিসো়ডের পরই শেষ হয়ে যাবে সিজন সেভেন। কর্তৃপক্ষ আগেই ঘোষণা করেছেন, আর মাত্র একটা সিজন পরেই যুদ্ধ শেষ। শেষ হবে সিংহাসনের লড়াই। সিজন আটেই শেষ হবে এই টেলিসিরিজ। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার বিচারে সেরা পাঁচে রয়েছেন ভিন্নধর্মী পাঁচ চরিত্র। গুগল ট্রেন্ডও সে দিকেই ইঙ্গিত করছে।

গুগল গ্রাফের গড় হিসেবে ফার্স্ট পজিশনের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই রয়েছে ড্যানেরিয়াস টারগেরিয়ান এবং জন স্নোর। নীল গ্রাফটি ড্যানেরিয়াসের সার্চ রেজাল্ট। লাল গ্রাফে বোঝা যাচ্ছে জন স্নোর সার্চের ফলাফল। তবে গুগল ট্রেন্ডে শেষ হাসি হেসেছেন ড্যানেরিয়াসই। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জন। ঠিক একই ভাবে আরিয়া স্টার্ক ও সারসেই ল্যানিস্টারেক মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। এখানে জিতেছেন আরিয়া। হলুদ গ্রাফ তাঁর রেজাল্ট। তিনি রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন সারসেই। সবুজ গ্রাফ তার প্রমাণ। প্রথম পাঁচের লড়াইয়ে বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন টায়রন ল্যানিস্টার। বেগুনি গ্রাফ তাঁর গুগল সার্চের রেজাল্ট।

ড্যানেরিয়াস টারগেরিয়ান (এমিলিয়া ক্লার্ক)

টারগেরিয়ান রাজবংশের এই উত্তরাধিকারীর লড়াই মূল সিংহাসনের লক্ষ্যে। ড্যানেরিয়াসের অন্য একটি নাম খালিসি। আসলে এক উপজাতি প্রধানের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। উপজাতির মহিলা প্রধানকে বলা হয় খালিসি। ইনি মাদার অব ড্রাগন। সে কারণে আগুনে পুড়লেও খালিসির কোনও ক্ষতি হয় না। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন খালিসি। উপজাতিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। সেখান থেকেই এক সময় নিজের সৈন্যদল তৈরি করেন। প্রথম দিকে উদার থাকলেও এখন আর ড্যানেরিয়াস উদার নন। তাঁর ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। অনেকে তাঁর ওপর কর্তৃত্ব দেখিয়েছেন। তবে এখন অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃত্ব করছেন খালিসি। সিংহাসনের জন্য লড়াই তো রয়েইছে। পাশাপাশি হোয়াইট ওয়াকারদের বিরুদ্ধেও লড়ছেন ড্যানেরিয়াস। এই চরিত্রে এমিলিয়া ক্লার্কের অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক।

 জন স্নো (কিট হ্যারিঙ্গটন)

সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার জন স্নো-চেহারার মধ্যেই রয়েছে নায়কোচিত সৌন্দর্য। কিট হ্যারিঙ্গটনের অভিনয় দর্শকরা পছন্দ করেন। প্রথম থেকেই ‘বাস্টার্ড চাইল্ড’ হিসেবে জনকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সিক্সথ সিজনে এসে আবিষ্কার হয় জন টারগেরিয়ান রাজবংশেরই উত্তরাধিকারী। এক সময় গ্রেট ওয়ালের লর্ড কমান্ডার জন এখন কিঙ্গ অব নর্থ। সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার হলেও আপাতত সিংহাসনের জন্য লড়াই করছেন না জন। বরং হোয়াইট ওয়াকারদের বিরুদ্ধে জারি রয়েছে তাঁর লড়াই। লর্ড অব দ্য লাইট এর আশীর্বাদধন্য জনকে এক সময় তাঁর লোকেরাই ছুরি মারে। তবে মরে গিয়েও জাদুবলে তিনি বেঁচে ওঠেন। সেই অর্থে গেম অব থ্রোনসে জন একমাত্র চরিত্র যাঁর পুনর্জন্ম হয়েছে। নেতৃত্ব হোক বা যুদ্ধে পারদর্শীতা— জনের হিরোইক ইমেজই তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

 আরিয়া স্টার্ক (মাইসি উইলিয়ামস)

সাধারণ একটি মেয়ে হিসেবে গেম অব থ্রোনস-এ শুরু হয়েছিল আরিয়ার জার্নি। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিতে নিজের শক্তি বাড়িয়েছে স্টার্ক বংশের এই উত্তরাধিকারী। একটা লিস্ট মেনটেন করেন আরিয়া। কোন কোন লোককে মেরে ফেলতে হবে, সেই লিস্ট। আসলে লিস্টের প্রত্যেকেই কোনও না কোনও সময় কোনও না কোনও ভাবে আরিয়া বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে শত্রুতা করেছেন। ক্ষতি করেছেন স্টার্কদের। লিস্টের চার-পাঁচজন এখনও বাকি। একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আরিয়া। পেয়েছেন কিছু বিশেষ ক্ষমতাও। কোথাও আরিয়ার ঘনিষ্ঠ কেউ নেই। আরিয়া নিজেও কারও ঘনিষ্ঠ নন। এই চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনেত্রী মাইসি উইলিয়ামস। নিরীহ সত্ত্বা থেকে আরিয়ার বলিষ্ঠ চরিত্রে উত্তরণের কারণেই দর্শক তাঁকে পছন্দ করেন।

 সারসেই ল্যানিস্টার (লীনা হেডি)    

গেম অব থ্রোনসের মূল নেগেটিভ চরিত্র হলেন সারসেই ল্যানিস্টার। এই মুহূর্তে তিনিই সিংহাসনে রয়েছেন। সারসেই সন্তানসম্ভবা। নিজের ভাই জেমি ল্যানিস্টারের সন্তানেরই মা হতে চলেছেন তিনি। এই সন্তানের জন্মের পর সিংহাসনের দাবিদার আরও একজন বাড়বে। উচ্চাকাঙ্খী, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মরিয়া সারসেইকে ওয়াক অব শেমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। অর্থাত্ সব পাপ ধুয়ে ফেলার জন্য নগ্ন করে তাঁকে গোটা রাজ্য ঘোরানো হয়। তাতে কোনও লাভ হয়নি। বরং সারসেইয়ের হিংস্রতা আরও বেড়ে গিয়েছে। একনায়কতন্ত্রে বিশ্বাসী এই চরিত্রটি কোনও বিরুদ্ধ মত সহ্য করতে পারেন না। সারসেইয়ের বিরোধিতার অর্থ মৃত্যু। এই চরিত্রে লীনার অভিনয় জিতে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়। কতটা অত্যাচারী বা খারাপ হওয়া যায়, তা যেন সারসেইকে দেখেই বুঝতে পারেন দর্শক।

 টায়রন ল্যানিস্টার (পিটার ডিঙ্কলেজ)

চেহারায় বামন। তবে বুদ্ধি দিয়েই দর্শকদের মন জয় করেছেন টায়রন। এই চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করছেন পিটার ডিঙ্কলেজ। টারগেরিয়ান রাজবংশের এই উত্তরাধিকারী নিজের বাবাকে খুন করেন। কারণ? বামন হওয়ার কারণে বাবা তাঁকে দোষারোপ করতেন। টায়রনকে ছোট থেকেই শুনতে হয়েছে তাঁর দ্বারা নাকি কিছুই হবে না। সেই রাগের প্রতিশোধ নিতেই বাবাকে খুন করেন তিনি। বহু জায়গা ঘুরেছেন টায়রন। বুদ্ধির চালে বহুবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। প্রথম সিজন থেকেই পরামর্শদাতা হিসেবে দেখানো হয়েছে টায়রনকে। দর্শকদের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তবে সপ্তম সিজনে খালিসির ডান হাত টায়রন দ্বিধায় ভুগছেন। কারণ এ বার লড়াই স্বজাতির বিরুদ্ধে। লড়াই নিজের ভাই বা বোনের বিরুদ্ধেই।

বিডিসংবাদ/এএইচএস