গোপালগঞ্জে আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় কৃষাণী গ্রুপ

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
গোপালগঞ্জে ২৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের সরিষার চাষ করেছে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদনকারী কৃষাণী গ্রুপ।তারা এখান থেকে সরিষার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন।৩ ফসলের এ জমিতে এখন বছরে ৪টি ফসল ফলবে বলে জানিয়েছেন কৃষাণী গ্রুপের সদস্যরা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে তারা আয় দ্বিগুণের স্বপ্ন দেখছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ভাটিয়াপাড়া ব্লকে ৩০ জন কৃষাণী সংগঠিত হয়ে ২৫ হেক্টর জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি সরিয়ার-১৪, বারি সরিষা-১৭ চাষাবাদ করেন। ক্ষেতে সরিষার ফলন বেশ ভালো দেখাযাচ্ছে ।
ভাটিয়াপাড়া কৃষাণী গ্রুপের সদস্য লিলি বিশ্বাস বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় আমরা ৩০ জন নারী সংগঠিত হয়ে ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করি।এ চাষাবাদে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের প্রণোদনার বারি সরিষা-১৪ ও বারি সরিষা-১৭ জাতের বীজ, রাসায়নিক সার, জৈব সার, কৃষি উপকরণ, পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের পরামর্শে আমার গত ১০ নভেম্বর একই সাথে ২৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন সরিষার আবাদ করি। সারিষা আবাদ লাভ জনক। এতে সেচ ও পরিাচর্যা খরচ খুবই কম। তাই অন্য ফসলের তুলনায় সরিষায় লাভ খুব বেশি হয় । ক্ষেত থেকে সরিষা তোলার পর বোরো আবাদ করব।বোরো কাটার পর এ জমিতে পাটের চাষাবাদ হবে। এরপর স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন আমনের আবাদ করব। আগে এ জমিতে ৩টি ফসল ফলত। এখন বছরে ৪টি ফসল করতে পারব। এতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করে আমরা আয় দ্বিগুণ করতে পারব ।
ওই ব্ল­কের কৃষাণী রমা পাইক বলেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার ও গোবরা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগী রবি মৌসুমের শুরুতে আমাদের গ্রুপ গঠন করে দেন। তাদের পরামর্শ অনুয়ায়ী কাজ করে আমরা সরিষার বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছি।এভাবে আধুনিক চাষাবাদের কলাকৌশল রপ্ত করতে পারলে আমাদের আয় অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
গোবরা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জ।তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে গোপালগঞ্জের গোবরা ইউনিয়নের কৃষকরা মাঠে মাঠে সরিষাসহ সোনা ফলাচ্ছেন। বাজারে ভোজ্য তেলের বেশ ভালো দাম রয়েছে । তাই কৃষাণী গ্রুপ আগ্রহভরে সরিষার আবাদ করেছেন। তাদের মাঠে সরিষার ফলনও ভালো দেখা যাচ্ছে।আশাকরা যাচ্ছে এবার সরিষার বাম্পার ফলন পেয়ে তারা লাভবান হবেন। এদের দেখা-দেখি আগামীতে আমার ইউনিয়নে লাভজনক সরিষার আবাদে কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে আগামী বছর সরিষার আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।
গোপালগঞ্জ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচএম খায়রুল বাসার বলেন, প্রচলিত জাতের সরিষা হেক্টরে মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি পর্যন্ত ফলন দেয়। এ সরিষা চাষ করে কৃষক লাভবান হন।এ সরিষার চাষাবাদ বৃদ্ধি করে ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি ২ ফসলের জমিকে ৩ ফসলী ও ৩ ফসলের জমিকে ৪ ফসলে রুপান্তরিত করা যায়।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, সরকার ভোজ্য তেলের আমাদানী নির্ভরতা কমাতে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ।তাই আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন বারি সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করেছি। তেল ফসল আবাদের প্রণোদনা পেয়ে ভাটিয়াপাড়া কৃষাণী গ্রুপের মতো গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষকরা সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করেছেন। এতে আমাদের তেল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে । অন্যদিকে কৃষক ২ ফসলের জমিকে ৩ ফসলী ও ৩ ফসলের জমিকে ৪ ফসলের জমিতে পরিণত করতে পারছেন। এ ভাবেই ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ভিশন ২০৪১ এর আদলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। কৃষিকে লাভজনক করতে ও কৃষকের আয় দ্বিগুণ করে দিতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।

বিডিসংবাদ/এএইচএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here