চকরিয়ায় পুলিশ-ডাকাত বন্দুক যুদ্ধ, ৬ ডাকাত গ্রেফতার

এএসপি আহত, ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশ ও ডাকাতের মধ্যে ঘন্টাব্যাপি বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। উভয়ের মধ্যে অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। এসময় এএসপি সার্কেল ও ৭ পুলিশ সহ ৯জন আহত হয়েছে। ওইসময় পুলিশ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে।  গতকাল সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চকরিয়া উপজেলার রিংভং ও লামা উপজেলার কুমারি ব্রিজ এলাকায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চকরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা পার্বত্য লামা উপজেলার কুমারী ব্রিজে ১৫-২০জনের একদল ডাকাত সশস্ত্র অবস্থায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছোছিলো। ওইসময় খবর পেয়ে কক্সবাজার চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেল এএসপি মতিউল ইসলাম ও ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ডাকাতদের ধাওয়া করে। ওইসময় ডাকাত দল পুলিশকে লক্ষ করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়তে থাকে। একপযার্য়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র সহ ঘটনাস্থল থেকে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়েছে। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন, সদর সার্কেল এএসপি মতিউল ইসলাম, এসআই কাউসার উদ্দিন, এসআই সুকান্ত চৌধুরী, এসআই আলমগীর, কনেষ্টবল ইব্রাহিম, মিনহাজ ও সাজেদুল হক।

তাদেরকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ডাকাত বেলাল উদ্দিন ও মোজাম্মেল হক গুরুতর আহত হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ডুমখালী এলাকার জাফর আলমের পুত্র বেলাল উদ্দিন (৩৮), একই এলাকার হাজী নুরুল ইসলামের পুত্র মোজাম্মেল হক (২৫), আবদুল হামিদের পুত্র আবদুর রহিম (২৫), হাকিম আলীর পুত্র আবুল হাসেম (৩০), মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র হোসেন আলী (৩০), মৃতু ছৈয়দ আহমদের পুত্র মহিউদ্দিন।  এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি লম্বা বন্দুক, ৩টি এলজি, ২টি ছুরি, ২টি কিরিচ, ২টি দা, ৫রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৬রাউন্ড গুলির খোসা সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫-২০জনের একদল ডাকাত চকরিয়ার সীমান্তবর্তি কুমারী ব্রিজ এলাকায় ডাকাতি করছিলো। ওইসময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধাওয়া করে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। তিনি আরও বলেন, তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ডাকাতদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।