চট্টগ্রামে মে দিবসে সড়কপথ বাসবিহীন নগরীতে রিক্সা ও অটোরিক্সার দৌরাত্ম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ  মহান মে দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল রুটে সব ধরণের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে দু একটি সিএনজি অটোরিক্সা চলতে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাও বন্ধ হয়ে যায়। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা চলাচলরত এসব সিএনজি অটোরিক্সাকে কে বাধা দিতে দেখা গেছে।

আজ মহান মে দিবস কর্মজীবি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্টার দিন। এ দিবস উপলক্ষে গাড়ী চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঘোষনা দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে ১লা মে সড়ক পরিবহন শ্রমিকেরা ছুটি ভোগ করবে এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা গাড়ি বন্ধ রেখে বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমাবেশে অংশ নেবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিষয়ে আগে জানানো হয়।
এদিকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। অফিস আদালত বন্ধ থাকলেও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে যারা বের হয়েছেন গাড়ীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে তাদের। তবে পুরো নগরীতে রিক্সার রাজত্ব চলছে।

মে দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রবিউল মাওলা বৃহত্তর চট্টগ্রামের ফেডারেশনভুক্ত সকল বেসিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ী চলাচল বন্ধ রেখে যথাসময়ে সমাবেশে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে যাত্রীবাহিবাস সহ সকল যানবাহন বন্ধ থাকায় অটোরিক্সা নির্ভর যাত্রীদের চরম ভোগান্তি মধ্যে পড়তে হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা, নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে গাড়ির জন্য দাড়িয়ে আছেন আয়েশা বেগম। আয়েশা বেগম একজন শিক্ষক। প্রতিদিনের মত আজকেও তার গন্তব্যে পৌছতে চরম ভোগান্তির শিকার হন তিনি।

এমনি ভোগান্তির স্বীকার করে তিনি বলেন, বাসের ১০ টাকার ভাড়া দিয়ে প্রতিদিন অফিসে যাই। আজ বাস না থাকায় এখন দিতে হচ্ছে দশ গুনেরও বেশি।
একের পর এক সিএনজি আর রিক্সা এসে ডাক দিচ্ছেন যেন এগুলো লোকাল পরিবহন। সিএনজি এসে ডাক দিচ্ছে ৫ জন পাঁচ শ, রিক্সা এসে জায়গার নাম অর্থাৎ ইপেজেড আগ্রাবাদ ১ জন পঞ্চাশ টাকা। এভাবেই যাচ্ছে আমাদেরমত খেটে খাওয়া মানুষের দিন যা দেখার জন্য নেই কেউ বলে তিনি অভিযোগ করে।

আগ্রাবাদ মোড়ে ভাড়া নিয়ে এমনি আরেকটি অভিযোগ করে ইয়ংওয়ানের ট্রেনিং লিডার অঞ্জয়। তিনি পাঠক ডট নিউজকে জানান, তিনি যাবেন লালখান বাজার । আর তাই এই নিয়ে তাকে ইপিজেড থেকে আগ্রাবাদ পর্যন্ত আসতে রিক্সা ওয়ালাকে দিতে হয় পঞ্চাশ টাকা। এরপর এখান থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত তাকে আবার গুনতে হবে পঞ্চাশ টাকা। আর রিক্সায় তার প্রতিবার সঙ্গী হবে অপরিচিত আরো দুইজন।

তিনি আরে জানায় মে দিবস নিয়ে বাস শ্রমিকদের এ কেমন দাবি? যদি তাদের কোন দাবি থাকে তারা এর আগে মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে তাদের দাবি যদি মিটিয়ে নিতো তাহলে আমাদের আজ এতো ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

ফিরোজ আর অঞ্জয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিএনজি ও রিক্সা ওয়ালার সাথে কথা বলতে গেলে সিএনজি চালকরা দ্রত গতিতে গাড়ি চালিয়ে প্রতিবেদককে এড়িয়ে যায়।
ইপিজিডের মোড়ে কথা হয় রিক্সা চালক নাছিরের সাথে। তিনি ইপিজেড মোড়ে আগ্রাবাদ একজন পঞ্চাশ টাকা করে ডাকতে থাকলে প্রতিবেদক জানতে চায়, আপনি কি লোকাল ভাড়া টানছেন? তিনি বলেন জ্বী ভাই। কেন টানছেন ভাই? তিনি বলেন যাত্রীদের সুবিধার জন্য।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য হলে কেন ভাড়া দ্বিগুন নিচ্ছেন? তিনি বলেন দূরের ভাড়্ তাই একসাথে দুই তিনজন নিলে আমারও ভাড়ায় হয় যাত্রীরাও তাদের জায়গায় পৌঁছাতে পারে।

কিন্তু যাত্রীরাতো বলছেন আপনারা অধিক ভাড়া নিচ্ছেন ? ভাই এর কমে শুধু আমি না কোন রিক্সাওয়ালাই যাবে না। এ অবস্থা শুধু আগ্রবাদ কিংবা ইপিজেড নয় এ দৃশ পুরা নগরী জুড়ে।

পহেলা মে উপলক্ষে পরিবহণ শ্রমিকরা ছুটি ভোগ করার কারণে আজ সোমবার থেকে নগরীনহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে যাত্রীবাহি বাস এবং মালামাল পরিবহণকারী গাড়ি বন্ধ রয়েছে। অনাকাঙ্খিত এ অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।