ছাত্রলীগের পূণর্মিলনীর কারণে রুয়েটে ক্লাস বন্ধ

রাবি প্রতিনিধি:
দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্লাস। গতকাল ও আজ বুধবার কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই ‘অটো সিস্টেমে’ ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকায় ছাত্রলীগের পূণর্মিলনীতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের যাতে ক্লাস মিস না হয় সেজন্য ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, মঙ্গলাবার ২৪ জানুয়ারি ছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পূণর্মিলনী। পূণর্মিলনীতে অংশ নেয়ার জন্য রুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট একটি বাস ও ২৪, ২৫ জানুয়ারি রুয়েটের ক্লাস বন্ধের দাবি জানায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়মের কথা বলে তাদের এই দাবি মেনে নেয়নি। এতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ক্লাস বন্ধ করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ জানুয়ারি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের অতিথি কক্ষে সকল বিভাগের সকল বর্ষের ক্লাস ক্যাপ্টেনদের নিয়ে একটি বৈঠক করে। এসময় রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাইম রহমান নিবিড় ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপু উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা ক্লাস ক্যাপ্টেনের মাধ্যমে সকল শিক্ষার্থীকে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়ার জন্য বলেন। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ফেসবুক গ্রুপে এই দুইদিন ক্লাস না করার জন্যও বলা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগের পূণর্মিলনীতে অংশগ্রহণকারী রুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যাতে ক্লাস মিস না হয় সেজন্য রুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকেও ক্লাস বর্জন করতে হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুয়েটের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের ক্লাস প্রতিনিধি ফেসবুক গ্রুপে ক্লাস হবে না বলে পোস্ট দিয়েছিল। কী কারণে ক্লাস হবে না সেটা জানি না।”
তবে ওই ক্লাস প্রতিনিধিকে ছাত্রলীগ ক্লাস বন্ধ করতে বলেছিল কিনা জিজ্ঞাসা করলে, তিনি কিছুই বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রহমান নিবির বলেন, “ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী আসার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বাস চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়ম-কানুন থাকার কারণে তা পাওয়া সম্ভব হয়নি।”
ক্লাস প্রতিনিধিদের দিয়ে ক্লাস বন্ধ করার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি শুনলাম কোনো ক্লাস হয়নি। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে তা জানি না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর এন এইচ এম কামরুজ্জামান সরকার বলেন, “আমার কাছে এ ধরনের ইনফরমেশন নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর রফিকুল আলম বেগ বলেন, “গতকাল ও আজ শিক্ষার্থীরা কেন ক্লাসে আসেনি, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। কেউ লিখিতভাবে আমাকে কোনো অভিযোগও দেয়নি। তাই কী কারণে তারা ক্লাসে আসেনি তা আমি জানি না, অনুষদের ডিনরা বলতে পারবেন।”