জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ ১৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা বিএনএফ’র

জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ ১৫ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট-বিএনএফ।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা-১৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এস, এম আবুল কালাম আজাদ আজ দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবন মিলনায়নে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে বিএনএফ’র এই ইস্তেহার ঘোষণা করেন।
আবুল কালাম আজাদ বাঙ্গালী জাতি রাষ্ট্রের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুজিব নগর সরকার ও সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী দেশি-বিদেশি সকল সম্মানিত সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি ১৯৭১ সনের পূর্বাপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য যাঁরা বিভিন্নভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন তাঁদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ সময় তিনি রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা যাঁরা জীবন সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শানিত করে জনগণের পাশে জনকল্যাণে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
বিএনএফ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের লালিত স্বপ্ন সম্পদের সুষম বণ্টন ভিত্তিক গণতান্ত্রিক জনকল্যাণ রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মাণ করেই, আমাদের শহীদের রক্তের ঋণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ঋণ শোধ করতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ জয় লাভ করলে মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সকল ধর্মের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কথিত বাজার সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে এই অপশক্তিকে নির্মূল করা হবে, সার্বিক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রাখা হবে, জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে গুণগত পরিবর্তন করা হবে, তরুণ ও যুব সমাজকে উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে, বৈষম্যহীন শ্রম আইন চালু করা হবে, জাতীয় অর্থনীতির ভিতকে মজবুত করতে মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বিবেচনায় রেখে মিশ্র অর্থনীতি অনুসরণ করা হবে, সংসদের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ও প্রেসিডেন্টের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যের সরকার ব্যবস্থা তথা মিশ্র সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে, জাতীয় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ সকল বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হবে , পাঁচ কোটি তরুণ ও সক্ষম যুবকদের সামরিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা যাতে করে প্রয়োজন হলে মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় নিয়মিত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে অবদান রাখতে পারে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সম্মান, যুদ্ধ নয় শান্তিকে ভিত্তি করে ভারসাম্যের পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা হবে, স্বাধীন মত প্রকাশে সকল ধরণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের জন্য পঞ্চবার্ষিকী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, কৃষি প্রধান দেশে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আনতে কৃষি বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করে কৃষির অন্তরায় সকল অব্যবস্থাপনা নির্মূল করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনএফ’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল-মারুফ, ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ সুলতানা আহমেদ এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মো. শফিউল্লাহ চৌধুরী, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এস, এম, ইসলাম ও জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল বরকত উল্লাহ্, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মাহবুব হাসান আজাদ এবং কেন্দ্রীয় নেতা এস এম লিটন, সাদিকুন নাহার খান, মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বিডিসংবাদ/এএইচএস