দেশ গঠনের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্যিই বিরল ও অনন্য : স্পিকার

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করা নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্যিই বিরল ও অনন্য।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি রচিত ‘বিশ্বে বিরল অনন্য শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। এসময় স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভার্চুয়ালি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে গ্রন্থ রচনা একটি দুঃসাহসিক অভিযান। অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করা এই নেত্রী সত্যিই বিরল ও অনন্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি ‘বিশ্বে বিরল অনন্য শেখ হাসিনা’ গ্রন্থটিতে প্রধানমন্ত্রীর বাল্যকাল থেকে অদ্যবধি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়গুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। গ্রন্থটি পাঠের মাধ্যমে পাঠক অনুধাবন করতে পারবেন যে শেখ হাসিনা সত্যিই বিরল ও অনন্য। বাংলা ও ইংরেজি দু’টি ভাষায় বইটি প্রকাশিত হচ্ছে, যা পাঠকদের জন্য যুগোপযোগী।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনকে ধারণ করে, তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা সংগ্রাম করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলার মানুষ ও উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন, গণতন্ত্রের প্রতি একনিষ্ঠতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। একদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলার পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তার পিতার দেখানো পথে এগোচ্ছেন, অন্যদিকে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে তিনি মানবতার মা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সারা বাংলাদেশে ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য ৯ লাখ ঘর তৈরির পরিকল্পনা তিনি বাস্তবায়ন করছেন। অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো যেন সকল মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন।

স্পিকার বলেন, পারিবারিক জীবনে একজন মা হিসেবে সন্তান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি সফল। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উন্নয়নশীল দেশের পথে এগিয়ে নেয়া, ২০৪১ সালের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নের সুদূরপ্রসারী চিন্তা তার মতো দক্ষ প্রশাসকের পক্ষেই সম্ভব।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালবাসেন। ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে স্বজন হারানোর ব্যথা নিয়ে আজ অবধি এদেশের মানুষের ভোট-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছেন। সব হারানোর ব্যাথা নিয়ে তিনি দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে চারবার প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। তার নেতৃত্বে পদ্মাসেতু নির্মাণ, সমুদ্রসীমা জয়, দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, খাল-নদী খনন, কর্ণফুলি টানেল নির্মাণসহ অসংখ্য কাজে দেশের সক্ষমতা এসেছে। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান স্পিকার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এ বি তাজুল ইসলাম এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব কবি ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

বিডিসংবাদ/এএইচএস