নবীনগর আদালত কর্তৃক রাস্তা নির্মাণে পৌর মেয়রকে কারন দর্শাও নোটিশ

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নবীনগর বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন মামলায় পৌরসভার মেয়র মাইনুল ইসলাম ও সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হেকিমকে একাধিকবার কারন দর্শাও নোটিশ প্রদানে ব্যার্থ হয়ে রাস্তা নির্মাণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেছেন।

আদালত বাউন্ডারি থেকে পদ্মপাড়া হয়ে বিজয়পাড়া মহল্লা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগর পৌরসভা উদ্যোগ গ্রহণ করে। তৎকালীন নবীনগর পৌরসভার প্রশাসক মোঃ মলাই মিয়া, প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম, স্থানীয় কমিশনারসহ এলাকার বহুসংখ্যাক সচেতন মহল সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক উপরোক্ত রাস্তা নির্মাণে কমপক্ষে উভয় পাশ থেকে ৬ ফুট জায়গা রেখে বাড়ী নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। পদ্মপাড়া মহল্লার মৃত আবুল হাশেম মিয়ার পুত্র গোলাম সারোয়ার পৌরসভার নির্দেশ অনুযায়ী ৩ ফুটের অধিক রাস্তার জন্য জায়গা রেখে বাড়ী নির্মাণ করলেও বিপরীত পাশের প্রভাবশালীরা রাস্তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে অবৈধভাবে স্থায়ী বাড়ী-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। নবীনগর পৌর বিএনপি নেতা মেয়র মাঈনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা পৌর কাউন্সিলর আবু সাঈদ, মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম সম্পূর্ন অবৈধভাবে প্রভাবশালীদের পক্ষাবলম্বন করে পুনরায় গোলাম সারোয়ার এর বাড়ীর স্থায়ী ইমারত অবৈধভাবে ভেঙ্গে রাস্তা নির্মাণের বে-আইনী উদ্যোগসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শন করে আসছে।

ভূক্তভোগী গোলাম সারোয়ার প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে উপায়ন্তর খুঁজে না পেয়ে ২০১৩ সালে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ২০১৩ সনের ৭ই নভেম্বরে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গোলাম সারোয়ার বাদী হয়ে এডভেকেট বিনয় চন্দ্র দাস এর মাধ্যমে একটি মামলা দায়ের করেন। যার দেওয়ানী মামলা নং- ৯৭। বিজ্ঞ আদালত বিগত সময়ে একাধিকবার নবীনগর পৌরসভার মেয়র, প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারাধীন মামলাটি নিষ্পত্তি করনে সমনসহ সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই কারণ দর্শাও নোটিশ করে ব্যর্থ হয়।

নবীনগর পৌরসভা প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে আদালত বাউন্ডারি থেকে পদ্মপাড়া হয়ে বিজয়পাড়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে বিগত সময়ে একাধিকবার সংবাদপত্রে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ কার্য্যাদেশ প্রদান করেও ব্যর্থ হয়েছে বলে ভুক্তভোগী বাদী গোলাম সারোয়ার প্রতিবেদককে জানায়।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘ ৫ বছরেও আদালত পৌরসভার পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কারন না পেয়ে উপরোক্ত রাস্তাটি নির্মাণে আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেছেন।