নরসিংদী’তে জাতির জনক’র সোনার-বাংলা গঠণে ভিক্ষাবৃত্তিসহ বাল্যবিবাহ বন্ধ ঘোষণা

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ  নরসিংদীতে স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৪৬ বছর অতিবাহিত হলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সোনার-বাংলা গঠনের অংশ হিসেবে ভিক্ষুক ও বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সম্প্রতি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে বেলাব উপজেলার চর-উজিলাব ইউনিয়নকে এ ঘোষণা দেন। এর পূর্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: আক্তারুজ্জামান ২৫ জন ভিক্ষুকের তালিকা তৈরী করে তাদের পূনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণের প্রেক্ষিতে সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে জনসচেতনতাম‚লক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসক নরসিংদীতে ভিক্ষাবৃত্তি ৬ মাসের মধ্যে ‘ভিক্ষুকমুক্ত’ করার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা দেয়া হয়েছিল।

২০১৪ সালে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রাথমিকভাবে নরসিংদী জেলায় বহিরাগত ভিক্ষুক প্রবেশ নিষিদ্ধ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মহতী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সভায় চর-উজিলাব ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বেলাব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বিপ্লব, বিশিষ্ট শিল্পপতি এ.এইচ. আসলাম সানী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শমসের জামান ভূইয়া রিটন, বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী, মহিলা পরিষদ বেলাব সাংগঠনিক শাখার নেত্রী রাবেয়া খাতুন শান্তি প্রমুখ।

অনুষ্ঠিত সভায় চর-উজিলাব ইউপি চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনে প্রত্যেককে ১টি করে অটো-রিকশা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে রিকশা চালিয়ে তারা পরিবারের স্বচ্ছলতাসহ ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে আগ্রহী হয়ে উঠবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এসব রিকশা বিতরণ করা হলো। এছাড়া ইউনিয়নকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান’ কর্মস‚চির আওতায় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমটি নরসিংদীতে মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে জেলার সচেতনমহল মনে করেন।