নারায়ণগঞ্জে নারীসহ অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

র‌্যার-১১ রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারীসহ অপহরনকারী দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

র‌্যাব-১১ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এর একটি অভিযানিক দল এএসপি আলেপ উদ্দীন এর নেতৃত্বে সংগীয় ফোর্সসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুরস্থ সোনাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারী চক্রের ৩ জন সক্রিয় সদস্য আঃ আলীম (৪২), পিতা-আঃ বারেক, সাং-আড়পাড়া, পোষ্ট-গোস্বামী দূর্গাপুর, থানা-সদর, জেলা-কুষ্টিয়া, এ/পি সাং-গোলদাসের বাঘ (জনৈক বাছেদ মাষ্টার এর বাসার ভাড়াটিয়া), থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ ও তার সহযোগী মোছাঃ মমতাজ বেগম (৩১), পিতা-মোঃ মোসলেম উদ্দিন, সাং-খাসপাড়া (জনৈক আলমাস মে¤¦ারের বাড়ি) পোষ্ট-কাঁচপুর পুরান বাজার, থানা-সোনারগাঁ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং মিসেস সুমি আক্তার (৩০), স্বামী-মোঃ আলম, সাং-চান্দিনা বাররা, পোষ্ট-বাররা, থানা-চান্দিনা, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি সাং-খাসপাড়া, পোষ্ট-কাঁচপুর পুরান বাজার, থানা-সোনারগাঁও, জেলা-নারায়ণগঞ্জদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ ৮০০ ঘটিকার সময় বাদী মোছাঃ রুনা বেগম (২৬) ও তার স্বামী-মোঃ আনোয়ার বেপারী (রং মিস্ত্রী), সাং-বিষ্ণুপুর, থানা-সদর, জেলা-চাদপুর, এ/পি সাং-কুড়িপাড়া (জনৈক ফজল সাহেব এর বাসার ভাড়াটিয়া), থানা-বন্দর, জেলা-নারায়ণগঞ্জ নিজ ঘরে শুয়ে ছিল। তখন ১নং আসামী আঃ আলীম তার ব্যবহৃত মোবাইল (০১৮১১৬৬৮৯৯৪) না¤¦ার দিয়ে মোঃ আনোয়ার বেপারীর ব্যবহৃত মোবাইল (০১৬৮২-৬৭২৪৩৬) না¤¦ারে ফোন করে তাকে তাড়াতাড়ি গোলদাসের বাঘ যেতে বলে, কারণ তার জন্য রং এর কাজ ঠিক করেছে। তখন আনোয়ার বেপারী (ভিকটিম) তার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে উক্ত বিষয় বি¯তারিত জানিয়ে আঃ আলীম এর নিকট যায়। ঐ দিন সকাল অনুমান ৯ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল বন্দর থানাধীন গোলদাসের বাঘ চৌরা¯তার পশ্চিম পাশের্¡ ভিকটিম উপস্থিত হলে উক্ত আসামী আলীম ভিকটিমকে কাজ দেওয়ার কথা বলে ২নং আসামী মোছাঃ মমতাজ বেগম এর বসত বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে ৩নং আসামী মিসেস সুমি আক্তার এবং পলাতক আসামী মোঃ সোহেল (৩৫) ও বিপ্লব (৩০) উভয় ঠিকানা অজ্ঞাত উভয় এ/পি মোছাঃ মমতাজ বেগম (এর ঠিকানার অনুরুপ) উপস্থিত ছিল। তখন ২ নং আসামীর নির্দেশে অন্যান্য সকলে ভিকটিম আনোয়ারকে নিয়ে টিনের ছাপড়া ঘরের শেষের রুমের ভিতর দিয়ে ভিতর হতে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ভিকটিমের গায়ের জামা খুলে ৩নং আসামীকে দিয়া ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ঝাপটাইয়া ধরে অবৈধভাবে ছবি তোলে এবং উক্ত ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে বর্ণিত আসামীরা কৌশলে তাদের মোবাইল ব্যবহার না করে ২নং আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার (০১৬৮২-৬৭২৪৩৬) থেকে তার স্ত্রীর মোবাইল নাম্বার (০১৬৩১-৯০৬৬৯৪) তে ফোন দিয়ে জানায় যে, তোর স্বামীকে বাঁচাতে হইলে ১ লাখ টাকা মুক্তিপন দিতে হবে তানা হলে তোর স্বামীকে বাঁচাতে পারবিনা, এই বলে ভিকটিমকে মারপিট করিতে থাকে, যা তার স্ত্রী নিজ কানে স্বামীর কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনতে পাই। স্বামীর ডাকচিৎকার কষ্ট শুনিয়া আসামীদেরকে বলে আমরা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই এত টাকা কোথায় পাব। তখন ২নং আসামী বাদিকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং বলে যে, তোর স্বামীকে জীবিত দেখতে হলে আধা ঘন্টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে হবে।

র‌্যা আরো জানায়, বাদী তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য দ্রাত র‌্যাব-১১, আদমজীনগর, নারায়ণগঞ্জ হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ পূর্বক ঘটনাস্থলে অভিযান করে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে তাদের স্বীকারোক্তি মতে মুক্তিপনের ১৫ হাজারটাকাসহ মোট ৯৪ হাজার টাকা ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং আসামীদের মোবাইলসহ মোট ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।