‘নিজের সংস্কৃতিকে জানো, ঐতিহ্যকে জানো’ ডিআইইউ’তে লোকবক্তৃতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল

বিডিসংবাদ শিক্ষা ডেস্কঃ  অর্থ উপার্জনই জীবনের সবকিছু নয়। অর্থ তো নানাভাবেই উপার্জন করা যায়। কিন্তু মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে হলে নিজের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জানতে হয়। নিজের শিকড়কে চিনতে হয়। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত লোকবক্তৃতা সিরিজের ১০ম পর্বে প্রধান বক্তার বক্তৃতায় এসব কথা বলেন দেশ বরেণ্য মহিলা উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল ও বিবি প্রডাক্টশন্সের কর্ণধার বিবি রাসেল। আজ রোববার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ মিলানায়তনে এ লোকবক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার, ক্যারিয়ার ডেভলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক আবু তাহের খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের শিল্প ও ব্যবসাখাতের নেতৃবর্গ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বক্তার বক্তৃতায় বিবি রাসেল আরও বলেন, বাবা-মাকে সম্মান করতে না পরলে কোনো কিছুকেই সম্মান করতে পারবে না। পারিবারিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আজ আমি যে বিবি রাসেল হয়েছি তার পেছনে রয়েছে বাবা মার অবদান ও পারিবারিক শিক্ষা। আমার পরিবার আমাকে ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাদের কাছ থেকেই মা, মাটি ও শিকড়কে চিনেছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বিবি রাসেল বলেন, কাউকে ভয় করা নয়, শ্রদ্ধা করা শিখতে হবে। বুকে সাহস রেখে নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে বিবি রাসেল বলেন, পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠান আমার চেহারা দেখে আমাকে পুরস্কার দেয়নি। আমি আমার কাজ দিয়েই পৃথিবীর কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছি। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে হতাশ না হতে পরামর্শ দেন। তাঁর জীবনে যখন হতাশার মুহূর্ত আসে তখন নিজেকে নানা কাজে ব্যস্ত রাখেন বলে জানান এই বিশ্ব বরেণ্য ফ্যাশন আইকন।

বাংলাদেশের তাঁত শিল্পকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন বিবি রাসেল। তিনি বলেন, আমি আমার স্বপ্ন বিক্রি করতে রাজি নই। সারা পৃথিবীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই বাঙালি ফ্যাশনকে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার তাঁতী পরিবার তাঁর সঙ্গে আছে বলে জানান বিবি রাসেল। তিনি বলেন, তাঁতীদের জীবন মান উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো, সবুর খান বলেন, একজন ফ্যাশন ডিজাইনার কীভাবে সারা বিশ্বের কাছে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ বিবি রাসেল। তিনি শুধু সংস্কৃতির টানে, দেশের টানে বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

এসময় মো. সবুর খান আরও বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে একাডেমির সমন্বয় করতে হবে। ফ্যাশন নিয়ে বিবি রাসেলের যে উদ্যোগ ও কর্মকা- তা কীভাবে কোর্স কারিকুলামের অন্তর্ভূক্ত করা যায় তা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার হামিদুল হক খান, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম ফজলুল হক, এইচআরডিআই এর ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ এ সোবহানী সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দেশের ১২ জন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তাকে নিয়ে এ লোকবক্তৃতামালার আয়োজন করছে। আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাগুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে একটি বই প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই ১২ জন উদ্যোক্তার ওপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হবে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আশা করছে যে, এ লোকবক্তৃতামালা নতুন প্রজন্মের সৎ, শিক্ষিত ও মেধাবী উদ্যোক্তাদেরকে সাহস, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য ও অনুপ্রাণিত করবে। উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গতিতে এগুতে পারছে না বলে যে ধারণা চালু রয়েছে, এ বক্তৃতামালা সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে অনেকখানি সাহায্য করবে আশা করা যায়।

ক্যাপশনঃ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটির (ডিআইইউ) ক্যারিয়ার ডেভেলাপমেন্ট সেন্টার আয়োজিত  ১২ পর্বের উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক “ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া বক্তৃতা মালা”র (‘ÔDIU Industry Academia Lecture Series on Entrepreneurship Development’) দশম পর্বের বক্তা দেশ বরেণ্য মহিলা উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল ও বিবি প্রডাক্টশন্সের কর্ণধার বিবি রাসেল এর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান।

শিক্ষার্থীদেরকে  পুস্তক থেকে অর্জিত জ্ঞানের পাশাপাশি  বাস্তবে প্রয়োগপযোগী দক্ষতাও অর্জন করতে হবে, যাতে নিযোগকারী  উদ্যোক্তারা বলতে না পারেন যে তারা উপযুক্ত লোক পাচ্ছেন না। এ বাস্তবতাকে বিচেনায়  নিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটি কারিক্যুলামে  প্রয়োগিক শিক্ষাকে যুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার সাথে যুক্ত করে তাদের হাতে- কলমে কাজ শিখিয়ে প্রকৃতপক্ষেই  কর্মক্ষম হয়ে উঠার সুযোগ  করে দিচ্ছে। এ জন্য আমি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটিকে সাধুবাদ জানাই এবং  দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এ পথ অনুসরনের আহবান জানান।

আমন্ত্রিত এই ১২ জন সফল উদ্যোক্তার বক্তৃতাসমূহ নিয়ে পরবর্তিতে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ব্যবসা, অথনীতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীদের জন্য রেফারেন্স পুস্তক হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করবে আশা করা যায়। এ পুস্তক শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অধিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবতার আলোকে বুঝতে ও শিখতে সাহায্য করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।  উল্লিখিত ১২জন উদ্যোক্তার উপর ডিআইইউ থেকে ১২টি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্যাপশন: “উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক ডিআইইউ ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিয়া বক্তৃতা মালা” অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভার্সিটির ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খান এডকম লিঃ চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা গীতি আরা সাফিয়া  চৌধূরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।