ফেব্রুয়ারীর মধ্যে উদ্বোধন হচ্ছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটভবন

অধরাই থাকছে প্রতিশ্রুতি

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

আগামী ২৮ ফেবব্রুয়ারির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান সড়কে নতুন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের কাজ শেষ করে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগ থেকে একটি চিঠিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করাও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই নির্দেশনার অনুলিপি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। নারায়ণগঞ্জ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল খালেক ভবন উদ্বোধনের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার জানান, নির্মানাধীন ভবনে আংশিক কিছু কাজ বাকী রয়েছে। যেগুলো সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গত ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট হাইকোর্ট বিভাগর রেজিস্টার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উদ্বোধনের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা জানানো হয়।

এখানে উল্লেখ্য গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ প্যানেল আইনজীবীদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, নারায়ণগঞ্জে দুই কোর্ট একই স্থানে একই সঙ্গে রাখবে। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ১৭টি পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি পদে নির্বাচিত হয়। একই প্রতিশ্রুতি দেয় গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের নির্বাচনেও। এ নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ ৯টি পদে আওয়ামীলীগ প্যানেল নির্বাচিত হয়। এ নির্বাচনের আগে বার্ষিক সাধারণ সভার আগের দিন গত ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে এসে নারায়ণগঞ্জের সাড়ে ১২শ আইনজীবীর দাবির প্রেক্ষিতে মত বিনিময় সভায় দুই কোর্ট এক সঙ্গে রাখার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি।

ওই দিন মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছিলেন, আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি নারায়ণগঞ্জের জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট এক সঙ্গে রাখব। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা রয়েছে সেটা হলো চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নির্মিত হয়ে গেছে। এটার বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এটাকে কি করা যায়। এটাকে অন্য কোন সরকারি দপ্তরকে প্রস্তাব করব নাকি অন্য কোন ব্যবস্থা নিব সেটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো। পরে আমরা জজ কোর্ট এলাকাতেই দুই কোর্ট এক সঙ্গে রাখার কাজ শুরু করব।
ওই দিন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু,

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব ও জুডিশিয়াল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক বিকাশ কুমার সাহা, যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মাহাবুব হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এসএম ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা সহ আইনজীবীগণ।

নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীদের দাবি ছিল, নারায়ণগঞ্জে জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট পৃথক স্থানে স্থানান্তর করা হলে আইনজীবী বিচারপ্রার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাত হবে। কারণ দুটি কোর্ট প্রায় দুই কিলোমিটার দুরে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে যানজট সমস্যা। নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগ দাবি করেছিল তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। আইনমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন বলে তারা দাবি করেছিল। কিন্তু এদিকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, দুই কোর্ট এখানেই একই সঙ্গে রাখতে হলে আদালতে প্রথম রিট করতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। এছাড়া আর কেন পদ খোলা নেই।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিছুর রহমান দিপু জানান, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্ট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোট শহরের বাহিরে ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকায় আছে। এ স্থানটিতে কোর্ট থাকায় বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও নারায়ণগঞ্জবাসী অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে কোর্ট হলে যানজটসহ প্রতিদিন নানা সমস্যার সৃষ্টি হবে। এবিষয়ে বিগত সময় প্রধান বিচারপতি মহদয় নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শন করেছেন। আমাদের সমস্যার বিষয় গুলো কাছ থেকে শুনেছেন। প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ বিচার ব্যবস্থার অভিভাবক। তিনি আমাদের প্রতি সহানুভুতিশীল। আমার বিশ্বাস বিচার ব্যবস্থার অভিভাবক এই চিঠির পূর্ন বিবেচনা করবেন এবং দুটি কোর্ট এক সাথে রাখবেন।