বরিশালে ফের বেপরোয়া কিশোর সন্ত্রাসী বাহিনী

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরী সহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় বেশ কিছু দিন ধরে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে উঠতি বয়সের কিশোর সন্ত্রাসী বাহিনী। ফলে সশস্ত্র হামলা, ছিনতাই ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ওইসব কিশোর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সাড়াশি অভিযানও শুরু করে সফলতা অর্জন করতে শুরু করেছেন। নগরী থেকে একরাতেই নয়জন উঠতি কিশোর সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা প্রায় সকলেই স্কুল ছাত্র ও মাদকাসক্ত। নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মোঃ আওলাদ হোসেন মামুন পিপিএম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরধরে উচ্ছৃঙ্খল কিছু কিশোর গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় নগরীর পরেশ সাগর মাঠের পাশে সুমন নামের এক যুবকের বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করা হয়। হামলার পূর্বে জিলা স্কুলের গেটে নুরে আলম নামের এক পথচারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ওই কিশোররা।

এ ঘটনায় সুমন বাদী হয়ে ১৩ জন কিশোর হামলাকারীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওসি আরও জানান, মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযানে নামেন পুলিশ। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এজাহারভূক্ত নয় আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উঠতি বয়সের ওইসব সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে জিলা স্কুলের সামনে থেকে সদর রোডের দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় স্কুলের মুলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী নুরে আলমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এরপর হামলাকারীরা নগরীর ব্রাউনকম্পাউন্ড এলাকায় প্রবেশ করে বেশ কয়েকটি বসতঘর ভাংচুর করে। সেখান থেকে পরেশসাগর মাঠের পেছনের গলিতে ঢুকে প্রথমে স্থানীয় সুমনের বাসায় ভাংচুর চালিয়ে ঘরের জানালার সকল প্লাস ভাংচুর করে। এর কিছুক্ষন পরেই জিলা স্কুল মোড় থেকে হালিমা খাতুন স্কুল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত গাড়ি ভাংচুর করা হয়। দেশীয় অস্ত্র হাতে কিশোর সন্ত্রাসীদের এ তান্ডবের সময় নগরজুড়ে আতংকের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় কিশোর সন্ত্রাসীদের মূলহোতা সৌরভ বালাসহ দুইজনকে আটক করে। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। সূত্রে আরও জানা গেছে, ওইসব অধিকাংশ কিশোর সন্ত্রাসীরাই মাদকাসক্ত ও স্কুল ছাত্র। তারা গ্রুপ গ্যাং সৃষ্টি করে এধরনের কর্মকান্ড করায় জনগনের সাথে পুলিশ সদস্যরাও এখন বিব্রতকর অবস্থায় পরেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর কিশোর অপরাধী চক্র ডিজে বাহিনী। ওই বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পরেছে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গোয়াইল ও পন্টেশ বাজার এলাকার বাসিন্দারা। নেশার জগতে ডুবে থাকা ডিজে বাহিনীর কিশোর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানী, ছিনতাই, হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজে বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তান হওয়ায় ভূক্তভোগী সাধারণ জনগন তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। গত কয়েক মাস থেকে এ বাহিনীর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ডিজে গ্রুপের নামকরন সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রুপের সদস্যদের চুল কাটার ষ্টাইল সম্পূর্ন আলাদা। তাই এলাকায় ডিজে বাহিনী নামেই তাদের সবাই চেনে। ওই বাহিনীর সদস্যরা স্কুল, কলেজগামী কিংবা ঝড়ে পড়া কিশোর।

তারা নেশার জগতে ডুবে থেকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, গোয়াইল গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুর রশিদ শিকদারের পুত্র শুভ শিকদার ডিজে বাহিনীর প্রধান। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে রয়েছে স্থানীয় বকতিয়ার সিকদারের পুত্র সজীব শিকদার। বাহিনীর অপর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হলো একই এলাকার মিজান বেপারী, বাপ্পী, হৃদয় বেপারী, ইয়াকুব হাওলাদার ও সাগর বেপারী। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে ওই বাহিনীর হামলার স্বীকার হয়ে সর্বস্ত্র খুঁইয়েছেন গোয়াইল গ্রামের সুনীল সিকদারের বাড়িতে বেড়াতে আসা শশীকর গ্রামের তার নিকট আত্মীয়রা।

তারা পন্টেশ বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে পৌঁছলে ডিজে বাহিনীর সদস্যরা তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল সেট, নগদ অর্থ ও ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে ডিজে বাহিনীর সদস্যরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভয়ঙ্কর কিশোর ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে দিনের বেলায়ও এখন ওইসব এলাকার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, ডিজে বাহিনীর বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।