বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে নীতি সংস্কার ও সমন্বয় অপরিহার্য : কর্মশালায় মুখ্যসচিব

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, দেশে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও সমন্বয় অপরিহার্য। একইসাথে তিনি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিখাতকে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘এলডিসি উত্তোরণের প্রেক্ষাপটে বেসরকারি বিনিয়োগের গবেষণা প্রতিবেদনের ভ্যালিডেশন ‘ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাস্টেইনবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন এবং ইআরডির প্রাক্তন সিনিয়র সচিব শরিফা খান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।
স্বল্পোন্নত দেশ হতে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে উত্তরণ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দিক নির্দেশনা এবং ইআরডির এসএসজিপি প্রকল্পের সহযোগিতায় উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে এলডিসি উত্তরণের ফলে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের কি ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে এবং সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুরোধে এসএসজিপি প্রকল্পের আওতায় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের সহযোগিতায় ‘বেসরকারিখাতের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এমতাবস্থায় গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান প্রধান দিকসমূহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের নিকট তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনাপূর্বক প্রতিবেদনটি চূড়ান্তকরণের উদ্দেশ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মুখ্য সচিব বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুত হতে গেলে ব্যবসায়ীদের প্রণোদনার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি বেসরকারিখাতে ব্যাপকভাবে গবেষণা ও উন্নয়নের উপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহবান জানান।
ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী তাঁর বক্তব্যে দেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির উপর জোরারোপ করেন। ইআরডির প্রাক্তন সিনিয়র সচিব শরিফা খান বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্ছলসমুহের পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বআরোপ করেন।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, সরকার প্রতিবছর চারটি করে অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। কর্মশালায় গবেষণার প্রধান প্রধান দিকসমূহের উপর আলোকপাত করে একটি উপস্থাপনা দেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড.সেলিম রায়হান।
সেলিম রায়হান তাঁর উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করার ক্ষেত্রে বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। সেকারণে মেগা প্রকল্পসমূহের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের উপর ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে নির্ভরকরবে।
কর্মশালায় প্যানেল আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য মহসিনা ইয়াসমিন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামির সাত্তার এবং বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)-এর চিফ এক্সেকিউটিভ অফিসার ফেরদৌস আরা বেগম।
ব্যারিস্টার মো. সামির সাত্তার তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দেশেই একটি শক্তিশালী আরবিট্রেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সেই লক্ষ্যে তিনি বিদ্যমান সালিশি আইনটি যুগোপযোগী করার পরামর্শ দেন।
ইআরডিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা এবং বেসরকারিখাতের প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

বিডিসংবাদ/এএইচএস