বড়দিনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জের ১৬৩ গীর্জায় উৎসবের আবহ

বিডিসংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এদিন যীশু খ্রিষ্টের জন্ম দিন। দিনটিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ শুভ বড়দিন হিসেবে উদযাপন করেন। বড়দিনকে সমনে রেখে গোপালগঞ্জের ১৬৩টি গীর্জায় উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। গীর্জাগুলো বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। এছাড়া ক্রিসমাসট্রি সাজানো হয়েছে ও বড়দিনের তারা জ্বলছে খ্রিষ্টান বাড়ি এবং গীর্জায় । ১৬ ডিসেম্বর থেকে চলছে প্রভাতী কীর্ত্তণ। বেশ কয়েকটি গীর্জায় প্রাক্ বড়দিনের উৎসব হয়েছে। গোপালগঞ্জের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসব মুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপনের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন।
বড়দিন সাড়ম্বরে উদযাপনে সরকারের ত্রাণ ও দুযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জের ১৬৩ টি গীর্জায় ৮১.৫মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। বড়দিনে গীর্জায় প্রার্থনায় অংশ গ্রহণকারীদের প্রীতিভোজের জন্য জেলার গীর্জা প্রতি ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে ওই মন্ত্রণালয়। গোপালগঞ্জের এনডিসি এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২৪টি গীর্জার জন্য ১২মেট্রিক টন, কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি গীর্জার জন্য ৩. মেট্রিক টন, কোটালীপাড়ার ৯৪টি গীর্জার জন্য ৪৭মেট্রিক টন, মুকসুদপুরের ৩৩টি গীর্জার জন্য ১৬.৫ মেট্রিক টন ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৫টি গীর্জার জন্য ২. মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে ওই মন্ত্রণালয়। আমরা প্রতিটি গীর্জায় এ চাল বিতরণ করেছি।
গোপালগঞ্জে খ্রিষ্টান ফেলোশিপের সভাপতি সম্যুয়েল এস বালা বলেন, গোপালগঞ্জে বরাবর উৎসব মুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হয়ে আসছে। এবছরও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ জেলা সম্প্রীতির গোপালগঞ্জে উৎসব মুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হবে। ইতিমেধ্যে গীর্জাগুলো ধুয়ে মুছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রংএর ছটায় সেজেছে গীর্জাঘর। বর্ণিল পতাকা ও ফুলেল সাজে সেজেছে প্রতিটি গীর্জা। এখন আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে ভজনালয়গুলো । বড়দিনের আগে প্রাক্ বড়দিন উৎসব হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ডলীর পক্ষ থেকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে বের করা হচ্ছে প্রভাতী কীর্ত্তণ। খ্রিষ্টান বাড়িতে ক্রিসমাসট্রি সাজানো হয়েছে। টানোনো হয়েছে বড়দিনের তারা। খ্রিষ্টান বাড়ি ও গীর্জায় এখন সাজসাজ রব। বিরাজ করছে উৎসব মুখর পরিবেশ। সরকার প্রতিটি গীর্জায় ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এ চাল দিয়ে বড়দিনের প্রর্থনায় অংশ নেওয়াদের প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের এ সহায়তার কারণে আমাদের উৎসব আরো বর্ণিল হয়ে উঠছে। আমরা মনেকরি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সরকার আমাদের বড়দিনের উৎসবকে আরো মুখরিত করতেই এ করেছেন।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গীর্জার ফাদার ডেভিড ঘরামী বলেন, যীশুখ্রিষ্টের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর আমাদের কাছে একটি আনন্দঘন শুভদিন। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯ টা থেকে আমাদের গীর্জায় বড় দিনের প্রার্থনা শুরু হবে। চলবে রাত ১টা পর্যন্ত। ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৯ টায় আমাদের গীজায় প্রার্থনা শুরু হয়ে দুপুর ১ পর্যন্ত চলবে। প্রার্থনা শেষে এদিন দুপুরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১ হাজার ২০০ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেবেন। বিকেলে সুধীজনের সাথে বড় দিনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। বড়দিনের অনুষ্ঠানমালা সফল করতে গীর্জায় মহড়া চলছে। এতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বড়দিনকে সমানে রেখে প্রভাতী কীর্ত্তণ হচ্ছে। অনেক গীর্জায় প্রাক্ বড়দিন উৎসব হয়েছে। প্রতিটি গীর্জায় উৎসবের আবহ বিরাজ করছে।

বিডিসংবাদ/এএইচএস