মে দিবসের সমাবেশ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে : রিজভী

পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একইসাথে হাওরাঞ্চলে ত্রাণ তৎপড়তায় দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, দুর্গত এলাকাগুলোতে এক কোটিরও বেশি মানুষ খাদ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ সরকার কেবল ৩ লাখ ত্রিশ লোকের তালিকা করেছে। সেখানেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সুবিধা পাচ্ছেনা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরির দায়িত্ব আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে দেয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ শনিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। এদিন আমাদের অঙ্গ সংগঠন শ্রমিক দল সমাবেশ করে থাকে। এবারো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা অনুমিত দেয়নি। তবে যেদিনই অনুমতি দেয়া হবে শ্রমিক দল সমাবেশ করবে। তারা এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাহাড়ী পানির ঢলে ভয়াবহ বিপর্যস্ত হাওর এলাকার মানুষ এখন বিপন্ন অসহায় অবস্থার মধ্যে ক্ষুধার্ত দিনযাপন করছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে প্রায় নি:স্ব হতে বসেছে সাড়ে আট লাখের অধিক পরিবার, অথচ ত্রাণ ও দৃর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মাত্র তিন লাখ ত্রিশ হাজার পরিবারকে সাহায্য দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয়েছে।

রিজভী বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে-হাওর অঞ্চলের প্রায় কোটির কাছাকাছি মানুষ খাদ্য ঝুঁকির মুখে রয়েছে আর পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ ভয়াবহ খাদ্য সঙ্কটের মুখে পড়েছে। অথচ দুর্গত এলাকাগুলোতে কোন সরকারী ত্রাণ নেই। উপদ্রুত হাওর এলাকাবাসীদের সাহায্য-সহায়তা নিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের মুখেই শুধু বড় বড় কথার ফুলঝুরি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী হাওর এলাকার জীবন-জীবিকায় গভীর সঙ্কটে নিপতিত মানুষের অসহায়ত্ব নিয়ে তামাশাই করে যাচ্ছে, কিন্তু কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।
তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানির তলে ডুবে গেছে লক্ষ লক্ষ হেক্টর ক্ষেতের ফসল। ঘরে ঘরে খাবার অভাবে মানুষ আহাজারী করছে। কাজের সন্ধানে ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ ভিটে বাড়ী ছেড়ে দেশের অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

এক ভীষণ দুর্ভিক্ষের আগ্রাসন সেই এলাকায় ধেয়ে আসছে। উপদ্রুত হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে। এতে বেছে বেছে পছন্দের আওয়ামী লোকদের তালিকা করা হচ্ছে। যাদেরকে ত্রাণ সরবরাহ করা হবে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক বঞ্চিত হবে। এই ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী নেতাদেরকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেয়ার জন্যই ক্ষুধার্ত অসহায় দুর্গত মানুষকে তাচ্ছিল্য করা হলো।

রিজভী বলেন, গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন- ‘বিএনপি দুর্গত এলাকায় ফটোসেশন করতে গেছে’। আসলে তার বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্যের অপলাপ। হাওরের প্রথম আঘাতের সময় আমাদের দলের মহাসচিব ওই এলাকায় গিয়ে সেখানে ত্রাণকাজে অংশ নিয়েছেন। গত পরশু দিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে দুর্গত এলাকায় ব্যাপক ত্রাণকার্য চালিয়েছেন। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিএনপির জাতীয় ত্রাণ কমিটির আহবায়ক আবদুল্লাহ আল নোমানকে সুনামগঞ্জে ত্রাণকার্য চালাতে প্রশাসন বাধা দিয়েছে। এরপরও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে দৃর্গত হাওর এলাকায় ত্রাণতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। সরকারী বাধা না থাকলে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ব্যাপক ত্রাণকার্য চালাতে সক্ষম হতো। এমনকি বেসরকারী সাহায্য সংস্থা, নাগরিক সংগঠনগুলোও সরকারের অসহযোগিতার কারণে ত্রাণ কার্য চালাতে পারছে না।

তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের আহার, ক্ষুধা ও অসহায়ত্ব নিয়ে মশকরা করবেন না। দেশের সকল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন এনজিও, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ত্রাণ তৎপরতায় বাধার সৃষ্টি করবেন না।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী আজ তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব যাবার পথে চিরার চর ব্রিজের কাছে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই আড়াইশোর একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাঁর গাড়ী ভাংচুর এবং আতাউর রহমান ঢালীসহ সঙ্গীদের ব্যাপক মারধর করে আহত করেছে।

স্থানীয় একজন মন্ত্রীর নির্দেশেই আতাউর রহমান ঢালীর ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমি আতাউর রহমান ঢালীর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এই ন্যাক্করজনক ও কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী করছি।