যে কারনে কালীগঞ্জে নিশ্চিন্তপুর প্রাঃ বিঃ দু’প্রধান শিক্ষক চেয়ার নিয়ে টানাটানি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুইজন প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) থাকা সত্তেও উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য দেখিয়ে অপর একজন প্রধান শিক্ষককে যোগদান করানোর ফলে বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোন কথা না শুনেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  সালমা খাতুন দুর্নীতির মাধ্যমে এ ঝামেলায় ফেলেছে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিযোগ।

কালীগঞ্জ পৌরসভার নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা ও সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত শামিমা হোসেন এখন একটি চেয়ার নিয়ে টানাটানি করছেন। তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ আদালতে নিষ্পিত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে না। ২০০২ সালে নিশ্চিন্তপুর বেসরকারি রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উম্মে সালমা সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। অদ্যবধি তিনি সেখানে কর্মরত আছেন।  এরপর ২০১৩ বিদ্যালয়টি জাতীয় করনের আগে ২০১০ সালে  ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ শাহ আলম শিলু স্বইচ্ছায় চলে গেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সুপারিশ মতো ১২/০৩/২০১২ ইং তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উম্মে সালমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০১৪ সালে ঐ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ পাবার জন্য মহামান্য হাইকোর্টে উম্মে সালমাসহ ৯১৩জন রিট করেন। সেই মতো তিনিই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। গত ২০১৬ সালে  নিয়ামতপুর ইউনিয়নের ঘোষনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা হোসেনকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা খাতুন নিজে ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগি হয়ে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করান। এরপর খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস শামিমা হোসেনকে ১৬ মার্চ তারিখের বিপ্রাশিক /খুবিখ/হি:ঘ:/৯৩-৫(বদলি আদেশ প্রা:শি)পার্ট ১/১৬/৩৫৫/০৫ নম্বর অফিস আদেশে তার বদলি বাতিল করেন। এর পর গত ২০১৭ সালের মার্চ ১৮ (শনিবার) তারিখে আবারও নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শামিমা হোসেন যোগাদান করেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কিছুই জানেন না। এর প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা আবারও কালীগঞ্জ  সহকারী  জজ আদালত,ঝিনাইদহে দেওয়ানী ৫৫/২০১৭ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ বিচারক খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও শামিমা হোসেনকে ২৮ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জবাব দিতে বলেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা উম্মে সালমা জানান,  বিষয়টি নিয়ে  মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছেন।

তারপরও কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার  নিজে উদ্যোগী হয়ে শামিমা হোসেনকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্কুলে এসে আমাকে হুমকি দিয়ে গেছে যে, কিভাবে আমি এ বিদ্যালয়ে চাকুরি করি। তিনি বলেন মহামান্য হাইকোট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদটি নিয়ে ৯১৩ জনের রায়ে ঐ বিদ্যালয় গুলোতে নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করে। এর মধ্যে মহেশপুর উপজেলায় একটি বিদ্যালয়েও এ সমস্যায় নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। তিনি  বলেন, আদালতে নিষ্পত্তি হবার পর যে রায় দেন সেটা আমি মেনে নেবো।বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক শামিমা হোসনে জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চিঠি মারফত তিনি ঐ বিদ্যালয়ে যোগাদান করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি।

ঐ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ মো: শরিফুল ইসলাম মিঠু জানান, বিদ্যালয়ে ২জন প্রধান শিক্ষক এখন। এর মধ্যে একজন সেই ৭ বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আছেন। তিনি এর মধ্যে আদালতেও  ২টি মামলা করেছেন বিষয়টি নিষ্পত্তি হবার জন্য। কিন্তু   গত মাসে শামিমা হোসেন নামের একজন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দাবি করে আসছেন। তবে তিনি জানান, যাকে এই বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস  প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন তিনি এসে নানা অপকর্ম শুরু করেছেন। বিষয়টি আদালতে রয়েছে তথাপি শিক্ষা অফিস এখানে নিয়োগ দিতে পারেন না। এছাড়াও শামিমা হোসেন  প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলে আসার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওয়াস রুম  তৈরি  বাবদ জনপ্রতি ১০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির  তোপের মুখে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। সভাপতি আরো অভিযোগ করেন, শামিমা হোসেন  এই বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুজন প্রতি বন্ধিকে পড়াতে  অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তার বক্তব্য প্রতিবন্ধিরা ঝিনাইদহ প্রতিবন্ধি স্কুলে গিয়ে পড়ুক। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আর একজন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। তবে তিনি বলেন,  আমার কোন স্বাক্ষর ছাড়াই শামিমা হোসেন কার্যক্রম চালাচেছন। এটা ঠিক না। আদালত যে রায় দিবে আমি সেই মতো দায়িত্ব বুঝে দেব। কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সালমা খাতুন জানান,  আমরা একটি নিষ্পিত্তি চিঠি পাবার পর শামিমা হোসেন কে নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যারয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  এছাড়াও তার বিরুদ্ধে  উঠা দুর্নীতির অভিযোগ  অস্বীকার করেন।