রূঢ় আচরণের শিকার হয়েছিলেন মিস নেপাল গ্যারেত

মিস ইউনিভার্সের ৭১ বছরের ইতিহাসে প্লাস সাইজের প্রতিযোগীকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছিলো এবার। ২০২৩-এ এ প্রতিযোগিতায় ২২ বছর বয়সী নেপালের সুন্দরী জেন দীপিকা গ্যারেত তার প্লাস সাইজ নিয়ে সকলের দৃষ্টি কাড়তে সমর্থ হন। বিচারক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শকরাও তার এই আত্মবিশাসী চলনকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছিলো। তা সত্ত্বেও গ্যারেতকে যথেষ্ট সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিলো। তার সৌন্দর্য নিয়ে অনেকেই বাজে মন্তব্য করতেও ছাড়েনি। তিনি অকপটে এই মন্তব্যগুলিকে হজম করেছেন এবং আত্মবিশ^াসের ওপর ভর করে এগিয়ে সকলের সমীহ আদায় করেছেন।

তিনি এ সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভেরাইটিকে একটি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। জেন দীপিকা গ্যারেত একজন মডেল হওয়ার স্বপ্নের আশ্রয় নিয়ে এগিয়েছেন। এ জন্য তাকে যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে। আজ তিনি যেভাবে সকলের সমীহ আদায় করেছেন এটা মোটেই সহজলভ্য কোনো কিছু ছিলো না। এ প্রতিযোগিতা তাকেও আরো আত্মবিশ^াসী হতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। যদিও গ্যারেত স্বীকার করেছেন যে তিনি ‘মঞ্চে এতটা সাধুবাদ পাওয়ার আশা করেননি।’ তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি কিছুই আশা করিনি। কেবল দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছি। আমার মনে হয়েছে এই প্লাটফর্মটি সারা বিশে^র নারীদের জন্য মর্যাদাকর একই সঙ্গে নারীদের অধিকতর আত্মবিশ^াসী করে তুলতে সবসময়ই অবদান রেখে চলা এক বিশ^ আয়োজন। যেখানে সকলের চোখ থাকে। সেটা মাথায় রেখেই অংশ নেওয়া।’ যদিও মিস ইউনিভার্স ২০২৩ আয়োজনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন নিকারাগুয়ার সুন্দরী শেনিস পেলাসিওস।

গত ১৮ নভেম্বর মধ্য আমেরিকার সান সালভাদারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেরা ২০-এ ঠাঁই করেন নেন গ্যারেত। তা সত্ত্বেও পুরো আয়োজনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্লাস সাইজের এই নেপালি। তার অনিন্দ্য মুখাবয়ব। আত্মবিশ^াসী চোখের দৃষ্টিতে পিছু লোকে কিছু বলাদের অবজ্ঞা তাকে আরো বেশি আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে চমৎকার সুইমিং শ্যুটে তাকে করে তুলেছে মোহনীয়। যা ছিলো নিন্দুকের কামনার বাসনায় পোড়া হায় আফসোসের তুল্য। মুখের সৌন্দর্যের রেখার সমালোচনায় বিশ^ব্যাপী গণমাধ্যমেও তিনি ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। তারপরও কিছু সমালোচনাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে উল্লেখ করেছেন গ্যারেত। তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু সমালোচনা ইতিবাচকের চেয়ে কম ছিলো না। আবার কিছু সমালোচনা ছিলো ‘নিষ্ঠুরতার’ পর্যায়ের। যেমন সামাজিক মাধ্যমগুলোতে কেউ কেউ লিখেছেন-‘আমি জিনিসগুলো (স্তন) দেখতে পাচ্ছি’, ‘ওহ, সে একটি তিমি’ বা ‘আপনি কেন জিমে যান না?’ ইত্যাদি।

অথচ যারা এই কথাগুলো অবলীলায় বলে গেলো তারা ঘুনাক্ষরেও জানলো না বা জানার চেষ্টাও করলেন না যে আমি কিসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একজন নারী হিসেবে যে সম্মান আমার প্রাপ্য সেটা দিতেও তারা বেমালুম ভুলে গেলো। সেখানে আমার শরীরটাই মূখ্য হয়ে গেলো তাদের কাছে। নিজের শরীর নিয়ে নেতিবাচক সমালোচকদের এমন যাতনায় মনোকষ্ট নিয়ে গ্যারেত জানিয়েছেন তিনি পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) নামের একটি সমস্যায় ভুগছেন।

এটি ডিম্বাশয় দ্বারা এন্ড্রোজেনের অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে হয়ে থাকে, যা নারীদের সাধারণ মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। পিসিওএস- এর কারণে ওজন বৃদ্ধি, মাসিকের অনিয়ম, ব্রণ এবং অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। সম্প্রতি পিসিওএস-এর প্রভাবের কারণে তার ওজন বেড়েছে দাবি করে তিনি বলেন- ‘এটি সত্যিই আমার মানসিক স্বাস্থ্য এবং আমার আত্মসম্মানে প্রভাব ফেলেছে। কারণ আমি ভেবেছিলাম যে আমি যথেষ্ট ভালো ছিলাম না বা আমাকে যথেষ্ট সুন্দর দেখাচ্ছিল না।

আর আমি তেমন একটা প্রভাব নিয়েই এই মঞ্চে এসেছি। এসে যেমন বাহবা কুড়িয়েছি, অন্যদিকে নিন্দুকের বাজে মন্তব্যের শিকার হয়েছি।’ সবকিছু পেছনে ফেলে জেন দীপিকা গ্যারেত ইতিবাচক মানসিকতার ওপর ভর করে মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন। মঞ্চে তার উজ্জ্বল আত্মবিশ্বাসকে সকলেই সম্মান জানিয়েছেন, তেমনি ‘প্লাস সাইজ’ অনেকের মনোজগতেও পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে বলেই বিশ^াস করেন গ্যারেত। আর এটাই ২০২৩-এর মঞ্চে আমার বড় প্রাপ্তি- যোগ করেন মিস নেপাল।