শৈলকুপার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ছাত্রীদের বিক্ষোভ! (ভিডিওসহ)

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র ছাত্রীদের বিক্ষোভ পক্ষ প্রতিপক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পিকনিক, বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বাবদ ৮৫০জনের নিকট থেকে ৫০টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। পরবর্তিতে প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ শাহা এ বছর মাথা পিছু ৫০টাকা করে চাঁদা নেওয়ার পরেও ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কোন পিকনিক করেনি। তাছাড়া বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বাবদ হাতে গোনা কিছু ছাত্র-ছাত্রীদেরকে প্লাষ্টিক সামগ্রী উপহার দেয়। যার বাজার মুল্য সর্বচ্চ  ৫টাকা থেকে ১০টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২৮শে মার্চ মঙ্গল বার সকাল ১০টার দিকে শৈলকুপার ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিকনিক, বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বাবদ ৮৫০জনের নিকট থেকে ৫০টাকা করে চাঁদা আদায় করে বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বাবদ প্লাষ্টিক সামগ্রী উপহার দেওয়ায় ও বাতসরিক পিকনিক বন্ধ করার জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসে না ঢুকে স্কুল মাঠে প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ শাহার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের পক্ষে বহিরাগত লোকজন এসে বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চড়াও ও হামলা করলে, দুপক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। সে সময় শৈলকুপা থানার এস আই মনিরুজ্জামান, কাবিল, হুমায়ন ও এএসআই সঞ্জয় ঘটনা স্থলে পৌছিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

এদিকে গত বছরের এস এস সি পরিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে ৮৫০জন ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ১০০টাকা করে চাঁদা নিয়ে বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক কোন খরচ পাতি করে নাই। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আত্মসাত করছেন প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ শাহা বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে শিক্ষার্থী সাইদ ও তাছলিমা।

আবার বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তুষার, লিঙ্কন, রাশেদ, সাগর, তরিকুল ও প্রিয়াংকা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ছেলেদের পায়খানা প্রসাব করতে হয় বিদ্যালয়ের পিছনের বাগানে। ক্লাসে একটিও ফ্যান নেই অথচ অফিস রুমে ৪টি ফ্যান চলে। স্কুলে না আসলে বা স্কুল থেকে চলে গেলে ২০/৫০ টাকা নেওয়া হয়। প্রতিমাসের বেতনও এবছর থেকে দ্বিগুন করে গুনতে হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কম্পিউটার ব্যাবহার করতে দেওয়া হয়না ।

ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের মধ্যেথেকে রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ শাহা বিভিন্ন স্থানে ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে প্রায়ই বলে যে, বিশ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছি। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে আমার এই ঘুষের বিশ লাখ টাকা আমি আদায় করবো।

এ ঘটনায় ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমীটির সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান বিপুল দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে ফুলহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষণ প্রসাদ শাহা অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, আমার ব্যাপারে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।