৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করায় দিনাজপুরে আনন্দ মুখরিত শোভাযাত্রা

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য’ ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার” এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বগ্রামাণ্য ঐতিহ্য’র স্বীকৃতি লাভ করায় ২৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় কর্মসুচির আলোকে সুশৃঙ্খল, সুসজ্জিত, বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণ আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

শোভাযাত্রায় আপামর জনতা ও বিভিন্ন সংগঠন বর্নাঢ্য র‌্যালী  আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল বজ্রকণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণ শোনার পর মুক্তিযোদ্ধারা রণক্ষেত্রে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে ফেটে পড়ত এবং উজ্জীবিত হতো নতুন করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত। সত্যিকার অর্থে ১৯৭১ এর ৭ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পর্যন্ত একটিই কমান্ড ছিল, আর তা ছিল ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণের জন্যই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালি জাতি টের পায়নি বঙ্গবন্ধুর শারীরিক অনুপস্থিতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই একমাত্র ভাষণ যার মধ্য দিয়ে গোটা বাঙালি জাতি সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সন্দেহ, অবিশ্বাস ঝেড়ে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই হচ্ছে বিশ্বের সেরা ভাষণ। স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সনদ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আগেই বিশ্বখ্যাতি পেলেও এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সুদৃঢ় হ’লো। গত ৩০ অক্টোবর’১৭ ইউনেস্কোর ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুরু ভাষণকে বিশ্বা প্রাধান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিষ্ট্রার স্মৃতিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মেমোরি অব ওয়ার্ল্ড রেজিষ্টারে সব  মহাদেশ থেকে ৪২৭টি প্রামান্য দলিল ও সংগ্রহ তালিকাভূক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভাষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

২৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় কর্মসুচির আলোকে সুশৃঙ্খল, সুসজ্জিত, বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণ আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।