ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে রূপপুর প্রকল্পের বাড়তি ইউরেনিয়াম জ্বালানি

রাবি প্রেসক্লাব সভাপতিকে ফাঁসানোর চেষ্টা

  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯
  • / 801
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে এক শিক্ষার্থী। তবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের দাবি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই সংবাদ সম্মেলন। অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব থেকে সদস্যপদ বাতিল হওয়া উমর ফারুক।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্ধর্তন নেতৃবৃন্দের নিকট নিজের অপরাধকে আড়াল রেখে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ দেয় উমর ফারুক। এতে রাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কোন ধরণের তথ্য যাচাই ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি তারিকুল হাসানের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আনীত অভিযোগটি সন্দেহ প্রবণ হয়।

দু’দিন বিষয়টি পর্যালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হওয়ায় তিনি নিজ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেন।


বিবৃতিতে উল্লেখ্য করা হয় ‘গত ১৬ মার্চ তারিখে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে সাবেক ক্লাব সদস্য উমর ফারুককে বহিস্কারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করি। তবে ওই দিন বিকেলে ক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র কয়েকজন সদস্যের সাথে সাক্ষাতে জানতে পারি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। উমর ফারুক আবারও প্রেসক্লাবে সংযুক্ত হতে ইচ্ছুক।

আরও উল্লেখ করা হয়, রাবি প্রেসক্লাবের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কোন ধরণের দ্বন্দ্ব নেই। আমরা আশা করছি ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে উভয়ের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরণ ও প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র সদস্যকে হুমকি দেওয়ার কার্যনির্বাহী কমিটির ১৩ সদস্যর মধ্যে ১১ সদস্য স্বাক্ষরিত আবেদন সভাপতি বরাবর আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে তাকে স্থায়ী সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পর থেকেই প্রেসক্লাব ও বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দেওয়া শুরু করে ওই সদস্য।

এদিকে তার সদস্য পদ ফিরে পেতে বর্তমান সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পী ও প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বরাবরও মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে লিখিত আবেদন করে সে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পী বলেন, উমরকে ক্লাবের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমে জড়ানোর ফলে কার্যনির্বাহী সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে তার স্থায়ী সদস্য পদ বাতিল করা হয়। এর আগে তাকে একাধিক বার সতর্ক করা হয়। এরপরও সংশোধন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে নানান ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তার এহেন কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধের সকল শহীদদের অপমানিত এবং মহান মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করা হয়েছে। ওই সদস্য’র বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
রাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’র সভাপতি তারিকুল হাসান বলেন, ভুল বুঝাবোঝির কারণে বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। একটি বিবৃতি দিয়েছি। বর্তমান সভাপতি এর সঙ্গে জড়িত নই বলে জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি পেয়েছি। সেখানে উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন সমস্য হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। আশা করি, দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাবি প্রেসক্লাব সভাপতিকে ফাঁসানোর চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৫:১৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে এক শিক্ষার্থী। তবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের দাবি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই সংবাদ সম্মেলন। অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব থেকে সদস্যপদ বাতিল হওয়া উমর ফারুক।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্ধর্তন নেতৃবৃন্দের নিকট নিজের অপরাধকে আড়াল রেখে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ দেয় উমর ফারুক। এতে রাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কোন ধরণের তথ্য যাচাই ছাড়াই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। পরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি তারিকুল হাসানের সঙ্গে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে আনীত অভিযোগটি সন্দেহ প্রবণ হয়।

দু’দিন বিষয়টি পর্যালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হওয়ায় তিনি নিজ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি দেন।


বিবৃতিতে উল্লেখ্য করা হয় ‘গত ১৬ মার্চ তারিখে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে সাবেক ক্লাব সদস্য উমর ফারুককে বহিস্কারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করি। তবে ওই দিন বিকেলে ক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র কয়েকজন সদস্যের সাথে সাক্ষাতে জানতে পারি ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং এ ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। উমর ফারুক আবারও প্রেসক্লাবে সংযুক্ত হতে ইচ্ছুক।

আরও উল্লেখ করা হয়, রাবি প্রেসক্লাবের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কোন ধরণের দ্বন্দ্ব নেই। আমরা আশা করছি ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে উভয়ের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঔদ্যত্বপূর্ণ আচরণ ও প্রেসক্লাবের এক সিনিয়র সদস্যকে হুমকি দেওয়ার কার্যনির্বাহী কমিটির ১৩ সদস্যর মধ্যে ১১ সদস্য স্বাক্ষরিত আবেদন সভাপতি বরাবর আবেদন করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে তাকে স্থায়ী সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর পর থেকেই প্রেসক্লাব ও বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দেওয়া শুরু করে ওই সদস্য।

এদিকে তার সদস্য পদ ফিরে পেতে বর্তমান সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পী ও প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বরাবরও মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে লিখিত আবেদন করে সে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক রাইহান বাপ্পী বলেন, উমরকে ক্লাবের শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যক্রমে জড়ানোর ফলে কার্যনির্বাহী সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে তার স্থায়ী সদস্য পদ বাতিল করা হয়। এর আগে তাকে একাধিক বার সতর্ক করা হয়। এরপরও সংশোধন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে নানান ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তার এহেন কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে মহান মুক্তিযোদ্ধের সকল শহীদদের অপমানিত এবং মহান মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে ভুলণ্ঠিত করা হয়েছে। ওই সদস্য’র বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
রাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’র সভাপতি তারিকুল হাসান বলেন, ভুল বুঝাবোঝির কারণে বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। একটি বিবৃতি দিয়েছি। বর্তমান সভাপতি এর সঙ্গে জড়িত নই বলে জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি পেয়েছি। সেখানে উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন সমস্য হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। আশা করি, দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা উচিত।