ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আহসান উল্লাহ মাস্টার মামলা: আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশ

  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো দিন আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তার প্রত্যাশা, হাইকোর্টের রায় বাতিল সাপেক্ষে আসামিরা খালাস পাবেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন মারা যান।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন নূরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু কারাগারে মারা গেছেন। এছাড়া টিপু ও নূরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল। এখন আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আহসান উল্লাহ মাস্টার মামলা: আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় দেশ

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো দিন আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নেই। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই সাজা দেওয়া হয়েছে। তার প্রত্যাশা, হাইকোর্টের রায় বাতিল সাপেক্ষে আসামিরা খালাস পাবেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন মারা যান।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের বেঞ্চ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন নূরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু কারাগারে মারা গেছেন। এছাড়া টিপু ও নূরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল। এখন আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে।