ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে রাজ্যগুলো: নতুন আইনি ব্যাখ্যায় উদ্বেগ

  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অর্থায়ন গ্রহণকারী রাজ্যগুলোর সরকারি সংস্থাগুলোকে এখন থেকে অনথিভুক্ত বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল (ওএলসি) গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক আইনি মতামতে ফেডারেল আইনটির একটি নতুন ও কঠোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এই নতুন ব্যাখ্যাটি ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন মতামতের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ওএলসির দেওয়া একটি পূর্ববর্তী আইনি ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিওজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নতুন ব্যাখ্যাটি কেবল ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে, ১৯৯৮ সালের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে অতীতে যেসব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জন্য কোনো অঙ্গরাজ্যের ওপর রেট্রোঅ্যাকটিভ বা অতীত-প্রযোজ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন টেরিটরি টিএএনএফ (TANF) ও এসএসআই (SSI) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে, যা এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।

এই নতুন আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন (NYIC) এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। নিউইয়র্কের ২০০টিরও বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার সংগঠনের এই জোটটি জানিয়েছে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ ৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকারগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেডারেল অর্থায়নের শর্ত হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আদালতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন জানিয়েছে, অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় তারা তাদের নীতিগত ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ডিওজের নতুন এই ব্যাখ্যার ফলে রাজ্যগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও জটিল আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সেবা গ্রহণ নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়েছে, টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ (টিএএনএফ) ও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই)-এর মতো ফেডারেল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থা নয়, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি সংস্থার ওপরও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওএলসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইনে ব্যবহৃত ‘স্টেট’ শব্দের আওতায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই ব্যাখ্যায় তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব মূলত টিএএনএফ ও এসএসআই পরিচালনাকারী নির্দিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংগঠনটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ওপর অতিরিক্ত অভিবাসন প্রয়োগের চাপ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে এনওয়াইআইসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর ঝুঁকিতে রাজ্যগুলো: নতুন আইনি ব্যাখ্যায় উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অর্থায়ন গ্রহণকারী রাজ্যগুলোর সরকারি সংস্থাগুলোকে এখন থেকে অনথিভুক্ত বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল (ওএলসি) গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক আইনি মতামতে ফেডারেল আইনটির একটি নতুন ও কঠোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। এই নতুন ব্যাখ্যাটি ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন মতামতের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ওএলসির দেওয়া একটি পূর্ববর্তী আইনি ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিওজের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নতুন ব্যাখ্যাটি কেবল ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে, ১৯৯৮ সালের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে অতীতে যেসব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জন্য কোনো অঙ্গরাজ্যের ওপর রেট্রোঅ্যাকটিভ বা অতীত-প্রযোজ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন টেরিটরি টিএএনএফ (TANF) ও এসএসআই (SSI) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছে, যা এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে।

এই নতুন আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন (NYIC) এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। নিউইয়র্কের ২০০টিরও বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার সংগঠনের এই জোটটি জানিয়েছে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ ৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এই উদ্যোগকে রাজ্য সরকারগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেডারেল অর্থায়নের শর্ত হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে এই প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে ভবিষ্যতে আদালতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন জানিয়েছে, অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় তারা তাদের নীতিগত ও আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ডিওজের নতুন এই ব্যাখ্যার ফলে রাজ্যগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও জটিল আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সেবা গ্রহণ নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়েছে, টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ (টিএএনএফ) ও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই)-এর মতো ফেডারেল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থা নয়, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি সংস্থার ওপরও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওএলসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইনে ব্যবহৃত ‘স্টেট’ শব্দের আওতায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই ব্যাখ্যায় তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব মূলত টিএএনএফ ও এসএসআই পরিচালনাকারী নির্দিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংগঠনটি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের ওপর অতিরিক্ত অভিবাসন প্রয়োগের চাপ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করে এনওয়াইআইসি।